প্রকাশ: ২৮ অগাস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা।একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতে বুধবার অনুষ্ঠিত রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৩০ কাঠা প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দ্বিতীয় দিন সম্পন্ন হয়েছে। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীসহ ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত একই সঙ্গে এই তিন মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে সাক্ষ্য দেন রাজউকের উপপরিচালক মো. মাহবুবার রহমান, সহকারী পরিচালক অসীম শীল ও পরিচালক উল্লাস চৌধুরী। তারা সাক্ষ্য প্রদান করেন রাজউকে জব্দ করা ৪৪টি নথি, যা রেহানার পক্ষ থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে প্লট বরাদ্দের আবেদনপত্র এবং আসামিদের দেওয়া হলফনামাসহ সম্পর্কিত।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর খান মোহাম্মদ মঈনুল হাসান জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা ও তার সন্তানরা তিনটি হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, ঢাকা ও আশপাশের শহরে তাদের কোনও সম্পত্তি নেই, অথচ বাস্তবে তাদের নামে ফ্ল্যাট ও বাড়ি রয়েছে। আদালতে সাক্ষ্য অনুযায়ী, মিথ্যা হলফনামা প্রদান করা হয়েছে যাতে অসহায় বলে দেখিয়ে রাজউক থেকে প্লট বরাদ্দ নেওয়া যায়।
এর আগে এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন, সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া ও সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান।
মামলার প্রসঙ্গে জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই আদালত চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছেন। চার্জ গঠন শুনানির সময় আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পৃথক তিন মামলায় শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীসহ মোট ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপর তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ৪৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত ২০ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ ও ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর মাধ্যমে মোট ছয়টি মামলায় বিচার শুরু করার জন্য মামলা পাঠানো হয়।
শেখ পরিবার ছাড়াও মামলার অন্যান্য আসামির মধ্যে রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য কবির আল আসাদ, সদস্য তন্ময় দাস, সদস্য মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য মেজর সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।
দুদক জানায়, গত জানুয়ারি মাসে এই প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে ও মেয়ে, বোন শেখ রেহানা, তার সন্তানরা এবং আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।