প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই আর্কটিক দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিতের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো গ্রিনল্যান্ড সফরে গিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়, এটি দখলের জন্যও নয়।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যারো যুক্তরাষ্ট্রের অভিপ্রায়কে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “প্রতিবেশী ও মিত্রদের ওপর নিজেকে চাপিয়ে দিয়ে আপনি যুক্তরাষ্ট্রকে আবার মহান করতে পারবেন না। বরং বিশ্বের স্বাধীনতা রক্ষা, অংশীদার ও মিত্রদের শান্তি ও সমৃদ্ধিতে অবদান রেখেই প্রকৃত মহত্ত্ব অর্জন করা সম্ভব।”
ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নজরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে খোলাখুলি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এমনকি তিনি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারো সেই প্রেক্ষাপটেই যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আর্কটিক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ইউরোপের অবস্থান পরিষ্কার—গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই বিক্রি হবে না।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিযোগিতামূলক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে জটিল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের বার্তা খুবই সুস্পষ্ট—গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস হবে না।
ফ্রান্স শুধু মুখের কথাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ব্যারো ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৬ সালের শুরুতে ফ্রান্স হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম দেশ, যারা গ্রিনল্যান্ডে একটি কনস্যুলেট খুলবে। পাশাপাশি একটি পার্টনারশিপ ডায়ালগ কমিটি গঠন করা হবে, যাতে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হয়। তার এ সফরের মূল লক্ষ্য ছিল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার প্রতি ফ্রান্সের দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করা।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফ্রান্সের এই অবস্থান শুধু কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ইউরোপের কৌশলগত প্রতিরোধের ইঙ্গিত। সামনের দিনগুলোতে গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে ভূরাজনীতির প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে বলে তাদের ধারণা।