প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতির পর আবারো আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি শুরু করলো সিরিয়া। সোমবার সিরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ভূমধ্যসাগরের তার্তুস বন্দর থেকে ছয় লাখ ব্যারেল ভারী অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হয়েছে, যা দেশটির তেল খাত পুনরুজ্জীবনের এক নতুন সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিদেশি বাজারে সিরিয়ার উপস্থিতি শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির কৌশলের অংশ হিসেবেই রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে। সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন জানিয়েছে, এই চালানকে শুধু বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয় বরং দেশটির জ্বালানি খাত পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।
সিরিয়া একসময় তেল রপ্তানির মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতো। ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ, মোট রপ্তানির অর্ধেক এবং সরকারি রাজস্বের অর্ধেকেরও বেশি আসতো তেল রপ্তানি থেকে। ২০১০ সালে দেশটি প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করতো। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে উৎপাদন ধসে পড়ে। ২০২৩ সালে তা নেমে দাঁড়ায় মাত্র ৪০ হাজার ব্যারেলে।
যুদ্ধকালীন অস্থিরতায় তেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানির চাহিদা মেটাতে সিরিয়া ব্যাপকভাবে ইরানি তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইরান তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এর পরপরই দেশটি আরও গভীর অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত হয়।
আসাদের পতনের পর সিরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। দীর্ঘ ৬২ বছরের বাথ পার্টির শাসনের অবসান ঘটিয়ে জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠিত হয় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তেল খাত পুনরুদ্ধারকে প্রথম সারির অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে।
তেল রপ্তানির এই পুনরারম্ভকে অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সিরিয়ার জন্য ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখছেন। তবে দেশটির ভাঙাচোরা অবকাঠামো, যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরই নির্ভর করছে এ প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে। আন্তর্জাতিক তেল বাজারে প্রতিযোগিতার মধ্যে সিরিয়ার অবস্থান পুনর্নির্মাণ কঠিন চ্যালেঞ্জ হলেও, ১৪ বছর পর নতুন করে শুরু করা এই যাত্রা দেশটির অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।