প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত ও নদীর প্রবল স্রোতের কারণে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সুতলেজ, বিয়াস ও রাভি নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
পাঞ্জাব সরকার এবং উদ্ধারকারী দলগুলি জানিয়েছে যে, হিমাচল প্রদেশ ও জম্মু-কাশ্মীরের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বর্ষণের কারণে নদী ও খালগুলোর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে রাভি নদীর তীব্র স্রোতে পাঠানকোট জেলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। অন্য জেলাগুলিতে, হোশিয়ারপুর, অমৃতসর, লুধিয়ানা, মানসা, রূপনগর এবং বরনালা জেলায় তিনজন করে নিহত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ২৩ জেলার মধ্যে ১২টি জেলা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
বন্যার ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা পাঠানকোট। এখানেই ছয়জনের মৃত্যু ঘটেছে এবং তিনজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। অমৃতসর, বরনালা, লুধিয়ানা এবং হোশিয়ারপুরসহ একাধিক জেলায় আরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বন্যার কবলে পড়া এক হাজার ৪৪টি গ্রাম সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত হয়েছে। শুধু অমৃতসরেরই প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফেরোজপুরে প্রায় ২৪ হাজার, ফাজিলকায় ২১ হাজারের বেশি এবং পাঠানকোটে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে।
সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ধার অভিযান চলেছে। ২০টি বিশেষ দল দুর্গত এলাকায় কাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলে মানুষকে সরানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
অপরদিকে, বন্যার প্রভাবে রাজ্যের কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২.৩২ লাখ একর কৃষি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যা কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, যানবাহন চলাচল এবং মৌসুমি অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমস ও অন্যান্য স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুসারে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অব্যাহত বর্ষণ ও নদীর পানি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা বিপদগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন, তবে আরও কয়েকদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াচ্ছে।