প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
আফগানিস্তানের পাহাড়ি অঞ্চলে রোববার ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছে। ভূপৃষ্ঠে শক্ত দোয়া ও ধ্বংসের চিহ্ন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান, এবং মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৮০০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আর আহত হয়েছেন প্রায় ১,৮০০ জন।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে কুনার প্রদেশ। সরকারি সূত্রের খবর, অনেক গ্রাম প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে, যার ফলে স্থানীয় মানুষের বেঁচে থাকার পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে বিপন্ন। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি হেলিকপ্টার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে জীবিতদের খোঁজার চেষ্টা করছে। তবে পাহাড়ি এলাকা এবং দুর্গম ভূগোলের কারণে উদ্ধারকর্মীরা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই ত্রাণ সামগ্রী এবং চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ধ্বংসের পরিমাণ এত বিশাল যে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। স্থানীয় হাসপাতালে আহতদের জন্য জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার চাপ বেড়েছে। তাছাড়া আশ্রয়হীন হয়ে পড়া মানুষদের জন্য জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে।
এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রভাবে আফগানিস্তানের অর্থনীতি এবং সাধারণ জীবনযাত্রার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। দেশটিতে ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও ত্রাণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এই পরিস্থিতিকে আরও সংকটজনক করে তুলেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও আফগান সরকারকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে। বিভিন্ন দেশের ত্রাণ সংস্থা ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানো শুরু করেছে।
উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় প্রাণহানি কমানোর জন্য আশা তৈরি হলেও, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ জীবিত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামলাতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সহায়তা একযোগে কাজ করছে, যাতে ত্রাণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম দ্রুত এবং যথাযথভাবে পৌঁছানো যায়।