প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ফিলিস্তিনের গাজা সিটির প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনারা। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গাজার গুরুত্বপূর্ণ জেইতুন ও শেখ রাদওয়ান এলাকাগুলো এখন তাদের দখলে। তিনি আরও বলেন, হামাসকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা এবং এখনও আটক রাখা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত না করা পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, কেবল বৃহস্পতিবারেই ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই গাজা সিটির সাধারণ বাসিন্দা। শহরের ভেতরে হামলার মাত্রা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় সেখানে মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
ইসরায়েলি সেনারা সম্প্রতি জেইতুন, সাবরা, তুফাহ ও শেজাইয়া এলাকাজুড়ে স্থল ও বিমান হামলা চালিয়েছে। ট্যাংক প্রবেশ করেছে শেখ রাদওয়ানের পূর্বাঞ্চলে। তুফাহ এলাকায় একাধিক আবাসিক ভবন ভেঙে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারা কোথাও নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছেন না। গাজার সিভিল ইমার্জেন্সি সার্ভিসের মুখপাত্র মাহমুদ বাস্সাল বলেন, মানুষকে বারবার সতর্ক করা হলেও তাদের জন্য কোনো নিরাপদ স্থান নেই। এমনকি ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ যে এলাকাগুলোকে ‘মানবিক জোন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেখানেও হামলা চলছে।
গাজার যুদ্ধের সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, যখন হামাস আকস্মিকভাবে ইসরায়েলে প্রবেশ করে বড় ধরনের আক্রমণ চালায়। ওই ঘটনায় প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয় এবং অন্তত ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই গাজায় বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
প্রায় দুই বছর ধরে চলমান এই অভিযানে গাজা মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজারের বেশি। নিহতদের মধ্যে নারীদের ও শিশুদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে গাজা সিটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লাখ। বর্তমানে এই শহরের বিশাল অংশই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যেখানে বেঁচে থাকা মানুষগুলো অমানবিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের অভিযানের সমালোচনা তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি গাজা ও পশ্চিম তীরে এক সপ্তাহ অবস্থান শেষে মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন ও জেফ মারকলে মন্তব্য করেছেন, তাদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার গাজায় জাতিগত নির্মূলের নীতি অনুসরণ করছে। একই ধরনের প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে পশ্চিম তীরেও চালানো হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান নিন্দা ও উদ্বেগের মধ্যেও ইসরায়েল তার সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গাজার জনগণের জন্য মানবিক সংকট আরও জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।