প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ইউক্রেনে নজিরবিহীন একদিনের হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি রাশিয়ার অর্থনীতিকে ‘ধ্বংস’ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, নতুন করে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
রবিবার গভীর রাতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সরকারি ভবনসহ একাধিক স্থাপনায় ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, মাত্র একদিনে রাশিয়া রেকর্ড সংখ্যক ৮১৮টি ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। এটি এ পর্যন্ত ইউক্রেনের মাটিতে একদিনে চালানো সবচেয়ে বড় আক্রমণ। ভয়াবহ এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নাগরিক জীবনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনার পর নিউ ইয়র্ক সিটিতে ইউএস ওপেন টেনিস ফাইনালে যোগ দিতে যাওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেন, তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপে প্রস্তুত কিনা। জবাবে ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীনভাবে জানান, তিনি ইতিমধ্যেই সেই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রকৃতি বা কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
রাশিয়ার এই হামলার ব্যাপারে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “এটা মানবতার এক ভয়াবহ অপচয়। সেখানে যা ঘটছে তাতে আমি একেবারেই সন্তুষ্ট নই। আমি বিশ্বাস করি এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।” তার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি আরও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং শিগগিরই রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই হামলার ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। ইউক্রেন সরকার জানিয়েছে, এ ধরনের ভয়াবহ হামলা দেশটির জনগণকে ভীতসন্ত্রস্ত করতে পারবে না, বরং প্রতিরোধ আরও জোরদার হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই রেকর্ড হামলা শুধু ইউক্রেন নয়, পুরো ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান রাশিয়া-আমেরিকা সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। বিশ্বজুড়ে এ সংঘাতের জটিলতা এবং এর ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।