প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। বহু বছরের গবেষণা ও প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পর দেশটির বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তারা এমন এক ক্যান্সার ভ্যাকসিন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যা নিরাপদ এবং কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। রাশিয়ার ফেডারেল মেডিকেল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল এজেন্সির প্রধান ভেরোনিকা স্কভোর্টসোভা এ ঘোষণা দেন ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরামে। এর ফলে মরণব্যাধি ক্যান্সার থেকে মুক্তি পেতে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্কভোর্টসোভা জানান, ক্যান্সারবিরোধী এই টিকা নিয়ে গবেষণা চলছে কয়েক বছর ধরে এবং শেষ তিনটি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘ভ্যাকসিনটি এখন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত, আমরা কেবল সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছি।’’ তার দাবি, প্রিক্লিনিক্যাল পরীক্ষাগুলোতে টিকাটি শুধু নিরাপদই নয়, বরং কার্যকারিতার ক্ষেত্রেও আশাব্যঞ্জক ফল দিয়েছে। পরীক্ষার সময় টিউমারের আকার হ্রাস এবং তার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, রোগীর অবস্থা ও ক্যান্সারের ধরনভেদে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রগতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
রুশ গবেষকদের মতে, এই টিকা প্রথমে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের জটিল ক্যান্সার গ্লিওব্লাস্টোমা এবং ত্বকের মারাত্মক ক্যান্সার মেলানোমাসহ নির্দিষ্ট ধরণের মেলানোমার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। যদি শিগগিরই অনুমোদন মেলে, তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং এক ক্ষেত্রে এটি নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে।
রাশিয়ার ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক চিকিৎসা মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি পরীক্ষার চূড়ান্ত ধাপগুলোও সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং ভ্যাকসিনটি বাজারে আসে, তবে ক্যান্সার চিকিৎসায় এটি হবে অভূতপূর্ব সাফল্য। বর্তমানে ক্যান্সার বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ; প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ এ রোগে প্রাণ হারান। ফলে কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়া গেলে তা শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি নয়, বরং বৈশ্বিক মানবতার জন্যও বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠবে।
এবারের ইস্টার্ন ইকনোমিক ফোরাম ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১০ম এ আসরে ৭৫টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিসহ প্রায় আট হাজার চারশতাধিক অংশগ্রহণকারী যোগ দেন। সেখানেই রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই বিপ্লবাত্মক ঘোষণাটি দেওয়া হয়, যা সভায় উপস্থিত সবার মধ্যে গভীর আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।
বিশ্বজুড়ে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গবেষণা হলেও এখন পর্যন্ত একে সম্পূর্ণ নিরাময়ের কোনো ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি। রাশিয়ার নতুন এ উদ্যোগ তাই আন্তর্জাতিক চিকিৎসা অঙ্গনে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। অনুমোদন মিললেই এটি হবে মানবজাতির ক্যান্সারবিরোধী লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি।