বিক্ষোভের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭০ বার
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

তরুণদের নেতৃত্বে টানা বিক্ষোভের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার কাঠমান্ডুর সচিবালয় থেকে জারি করা এক সরকারি বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জনগণের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের কারণে অলি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

গত সোমবার থেকে নেপালজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাজধানী কাঠমান্ডু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে তরুণরা রাস্তায় নামেন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাজারো মানুষ কারফিউ ভেঙে বিভিন্ন শহরে মিছিল করেন। বিক্ষোভকারীরা নেপালি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অফিস ও মন্ত্রীদের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

সোমবার রাত থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে। এতে অনেকেই আহত হন। কিন্তু তাতেও আন্দোলনের গতি থামেনি, বরং আরও বৃহৎ আকার ধারণ করে। বিক্ষোভকারীরা দাবি জানাতে থাকেন যে প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন। সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে নেপালি কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে পরিস্থিতি যে দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে, কারণ আন্দোলনকারীরা শুধু প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণ প্রজন্মের এই বিক্ষোভ নেপালের রাজনীতিতে একটি নতুন মোড় এনে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনগণের হতাশা থাকলেও এবারকার আন্দোলনে তরুণদের নেতৃত্ব এবং তাদের সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতা প্রমাণ করেছে যে নেপালের রাজনীতিতে এখন পরিবর্তনের দাবি জোরালো। সরকার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সেই দাবি কতটা পূরণ হবে, সেটিই এখন সময়ের অপেক্ষা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত