প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সিলেটে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অমান্য করে টিলা কাটা বন্ধে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি এ ধরনের কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের সীমান্ত শাখা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সরকারি আদেশ জারি করা হয়। এতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, টিলা কাটার চেষ্টা চালালেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন যে প্রশাসন ইতিমধ্যেই সক্রিয় নজরদারি শুরু করেছে। তিনি বলেন, “পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫–এর ৬ (খ) ধারায় অবৈধভাবে পাহাড় ও টিলা কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ আইন অমান্যকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
প্রশাসনের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন। গত শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, সিলেটে পাথরের পর এখন টিলাও নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার ও সোমবার সিলেট সদর উপজেলা ও নগরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযানে টিলা কর্তনের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়। এক ব্যক্তিকে টিলা কাটার দায়ে এক সপ্তাহের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং আরও দুজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিলা কাটা কেবল প্রাকৃতিক ভারসাম্যকেই হুমকির মুখে ফেলে না, বরং ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। সিলেটের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য টিলা ও পাহাড় নির্ভর হওয়ায় এসব কাটার ঘটনায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তৈরি হতে পারে।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সিলেট অঞ্চলে টিলা ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে সোচ্চার। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের মদদে বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছে। তবে এবার প্রশাসনের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে টিলা কাটা বন্ধে কার্যকর অগ্রগতি ঘটতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতে টিলা কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগই এক্ষেত্রে একমাত্র সমাধান বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।









