কি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হলো নেতানিয়াহু -ট্রাম্পের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৩ বার
কি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হলো নেতানিয়াহু -ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটময় পরিস্থিতিকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিরূপ কথোপকথন ঘটে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং বার্তা সংস্থা আনাদোলু।

মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দোহায় হামলার খবর তিনি ইসরাইলি সরকারের কাছ থেকে নয়, বরং মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে জানতে পারেন। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং জানান, এমন এক দেশের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে, যারা গাজা যুদ্ধ বন্ধে সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতা করছে। ট্রাম্পের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু অবিবেচনাপ্রসূতই নয়, বরং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।

অন্যদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ফোনালাপে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, তার হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য খুব কম সময় ছিল। তিনি মনে করেছিলেন, এটি একটি কৌশলগত সুযোগ, যা কাজে লাগানো জরুরি। নেতানিয়াহুর এই ব্যাখ্যায়ও ট্রাম্প সন্তুষ্ট হননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইলের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর একতরফা পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা না করেই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক আক্রমণ চালানোয় মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে নেতানিয়াহুর প্রতি হতাশা বাড়ছে। বিশেষত ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, যেখানে কাতারের মতো দেশগুলোকে শান্তি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত রাখা জরুরি। কিন্তু ইসরাইলি হামলা সে প্রচেষ্টাকে বিপর্যস্ত করছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, প্রথম ফোনালাপে তীব্র বাক্যবিনিময়ের পর নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে দ্বিতীয়বার একটি তুলনামূলকভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপ হয়। সেসময় ট্রাম্প জানতে চান, আক্রমণ কতটা সফল হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জবাব দিতে ব্যর্থ হন, যা দুই নেতার মধ্যে আস্থার ঘাটতি আরও প্রকট করে তোলে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর এই বিরোধ কেবল দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের জটিল নতুন বাস্তবতাকে সামনে আনছে। ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও, কাতারে হামলার মতো পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক লক্ষ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করছে, যা অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প কি ইসরাইলের প্রতি তার অটল সমর্থনের নীতি পুনর্বিবেচনা করবেন, নাকি নেতানিয়াহুর এই আক্রমণাত্মক কৌশল শেষ পর্যন্ত দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককেই নতুন সংকটে ঠেলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত