ইতিহাসের ভয়াল দিনকে স্মরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৫ বার
নাইন ইলেভেনের ২৪ বছর পূর্তি আজ

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা নাইন ইলেভেনের ২৪ বছর পূর্তি আজ। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সেই কালো দিনে একযোগে চালানো সন্ত্রাসী হামলায় কেঁপে উঠেছিল গোটা বিশ্ব। চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতীকী স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়। নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে দুটি বিমান আঘাত হানলে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে ভবনদ্বয়। একই সময় ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনেও একটি বিমান আঘাত হানে এবং অপরটি ভূপাতিত হয় পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে। মুহূর্তের মধ্যে সন্ত্রাসের কাছে নত হয়েছিল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি।

ভয়াবহ ওই হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আহত হন প্রায় ২৫ হাজার। নিহতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিশ্বের প্রায় ৭৮টি দেশের নাগরিক ছিলেন, যার মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও ছিলেন অনেকে। এই বিপুল প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় পুরো আমেরিকা স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। মার্কিন প্রশাসন দিনটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াল দিন হিসেবে ঘোষণা করে এবং প্রতিবছর নানা আয়োজনে ভুক্তভোগীদের স্মরণ করে আসছে।

২৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ নিউইয়র্ক, পেন্টাগন ও শ্যাঙ্কসভিলে শোকসভা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। নিহতদের স্বজন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এসব আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন। প্রথা অনুযায়ী, নিহতদের পরিবারের সদস্যরা একে একে নিহতদের নাম পাঠ করবেন এবং স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নীরবতা পালন করা হবে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে মার্কিনিরা শুধু তাদের হারানো প্রিয়জনদেরই স্মরণ করেন না, বরং দুঃসহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া এক জাতির পুনর্জাগরণের কথাও স্মরণ করেন।

আল-কায়েদা এই হামলার দায় স্বীকার করলে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সূচনা হয়। মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালায়, যা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও সামরিক আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র, যার ফলে বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। অবশেষে ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে অভিযান চালিয়ে আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা ও নাইন ইলেভেন হামলার নেপথ্য পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী।

এই হামলার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসস্তূপ শুধু নিউইয়র্কের নয়, পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নাড়া দিয়েছিল। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে। বহু কোম্পানি ধ্বংস হয়, চাকরি হারান হাজারো মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে বিমান চলাচল, ভিসা ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস হওয়ার পর ২০০৬ সালে শুরু হয় নতুন করে এর নির্মাণকাজ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০১৪ সালে এটি নতুন রূপে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এটি এখন শুধু একটি ভবন নয়, বরং পুনর্জাগরণ, স্থিতিস্থাপকতা এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত