প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ‘২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নেপালে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশটির আন্দোলনকারী ‘জেন-জি’ গোষ্ঠী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাচ্ছে। আন্দোলনকারীরা এমন একজন নেত্রী চাইছেন, যার দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তি রয়েছে, যিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং যিনি দেশের প্রশাসনিক ও বিচারিক ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাদের মতে, এই দিক থেকে সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর জন্য উপযুক্ত প্রার্থী।
এ পদে নিযুক্ত হলে সুশীলা কার্কি নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হবেন। ৭৩ বছর বয়সী সুশীলা কার্কির স্বামী নেপালের যুব কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন, কিন্তু সুশীলা দীর্ঘদিন ধরে দল ও রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। তিনি নেপালের ইতিহাসে একমাত্র নারী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
সুশীলা কার্কির শিক্ষাজীবনও অনন্য। ১৯৭৫ সালে তিনি ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৯ সালে বিরাটনগরে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করার পাশাপাশি সহকারি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে তাকে নেপালের সুপ্রিম কোর্টে অ্যাডহক বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয় এবং একই বছর তিনি প্রধান বিচারপতি হন।
সুশীলা কার্কি বিশেষভাবে পরিচিত তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য। দেশটির ইতিহাসে এক মন্ত্রীর কারাদণ্ডসহ একাধিক ঐতিহাসিক রায়ের জন্য তার নাম সুপরিচিত। নেপালের প্রবীণ আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবেও তিনি জনপ্রিয় এবং আন্দোলনকারীরা তার বিচারিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।
এই প্রস্তাবিত পদক্ষেপ নেপালের রাজনৈতিক দুনিয়ায় নতুন ধরনের নেতৃত্বের সূচনা করতে পারে। জেন-জিদের পক্ষ থেকে সুশীলা কার্কির সম্ভাব্য নিযুক্তি দেশটির রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।