জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কাতারে ইসরাইলি হামলার নিন্দা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৮ বার
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কাতারে ইসরাইলি হামলার নিন্দা

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর  ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরাইলি হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এ ঘটনায় উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে পরিষদের ১৫ সদস্য দেশ, যেখানে ইসরাইলের দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও কাতারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবে গৃহীত বিবৃতিতে কাতারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয় এবং হামাসের হাতে আটক ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি, পাশাপাশি গাজায় চলমান যুদ্ধ ও মানবিক দুর্ভোগের অবসানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে আলোচিত বিবৃতিতে ইসরাইলের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। সাধারণত জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে রক্ষায় দৃঢ় ভূমিকা পালন করে, কিন্তু এবার দোহায় হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও অসন্তোষ প্রকাশ পাওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

জাতিসংঘে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডরোথি শিয়া বলেন, “কাতার একটি সার্বভৌম দেশ, যারা শান্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং সাহসিকতার সঙ্গে ঝুঁকি নিচ্ছে। এমন একটি দেশের অভ্যন্তরে একতরফা বোমা হামলা ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ পূরণ করবে না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে জিম্মিদের ফেরানোর প্রশ্ন তুললে তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

সাক্ষরতার প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

নিরাপত্তা পরিষদের এই বিবৃতি আসে এমন এক সময়ে যখন গাজা সিটিতে ইসরাইলি সামরিক অভিযান আরও তীব্র হয়েছে। টানা বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযানের কারণে ইতোমধ্যে দুই লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

কাতারে গত মঙ্গলবার ইসরাইলি হামলায় পাঁচজন হামাস সদস্য নিহত হয়। হামাস জানিয়েছে, তাদের শীর্ষ নেতারা এ হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন। একই ঘটনায় কাতারের নিরাপত্তা বাহিনীরও একজন সদস্য প্রাণ হারান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ হামলার সময় কাতার ছিল গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। শান্তি প্রচেষ্টার মধ্যেই কাতারে এ ধরনের হামলা চালানোকে অনেকেই শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরাইলের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। কাতার দীর্ঘদিন ধরেই গাজা যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। সেই দেশেই সামরিক আঘাত হানা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিন্দা সত্ত্বেও ইসরাইলি সামরিক কর্মকাণ্ড থামবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত