ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড-বসুন্ধরা টিস্যু পেপার মিলে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৪০ বার
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড-বসুন্ধরা টিস্যু পেপার মিলে

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ‘ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন বসুন্ধরা টিস্যু পেপার মিলে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিলের ইউনিট-৩ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। টানা প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারীরা জানিয়েছেন, প্রথমে আগুন গ্যারেজ অংশে দেখা দেয়, পরে তা ইউনিট-৩-এ ছড়িয়ে পড়ে। এই ইউনিটে মূলত ডায়াপারসহ শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদন হতো। কর্মচারীরা প্রথমে নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান, কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। রাত সাড়ে এগারোটা থেকে টানা রাত দুইটা পর্যন্ত আগুন জ্বলতে থাকে, এতে কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে নিরাপত্তার খোঁজে এদিক-ওদিক ছুটোছুটি শুরু করেন।

গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. ফিরোজ মিয়া জানান, রাত বারোটার কিছু পর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্নিনির্বাপণের কাজ শুরু করা হয়। গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রথমে কাজ শুরু করলেও পরে আশপাশের স্টেশন থেকে আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। চারটি ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রাত দেড়টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং রাত দুইটার দিকে সম্পূর্ণভাবে নির্বাপিত হয়।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সফিকুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগার সময় মিলের ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না এবং সেখানে ধূমপান করা নিষিদ্ধ। তবুও কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার মতে, প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অনুমান করা হলেও প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

এদিকে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার আলম আজাদ জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাতের নীরবতা ভেঙে আগুনের ভয়াবহ শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দূর থেকে দেখা যাচ্ছিল। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি উৎপাদন কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বসুন্ধরা গ্রুপ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী, যাদের কাগজ, টিস্যু, সিমেন্টসহ একাধিক খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে। গজারিয়ার এই অগ্নিকাণ্ড শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও শিল্পের ধারাবাহিকতাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষতির সঠিক হিসাব পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত