গাজায় আরও ৫৩ জন নিহত, দুর্ভিক্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২২

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭৬ বার
গাজায় আরও ৫৩ জন নিহত, দুর্ভিক্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২২

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নতুন করে সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা বেড়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর টানা বিমান হামলায় একদিনেই অন্তত ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা সিটির রেমাল এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ১৬টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি আবাসিক টাওয়ারও রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে খাদ্য সংকট এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে আরও দুজন অপুষ্টিতে মারা গেছেন। এতে ক্ষুধায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২২। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা বারবার সতর্ক করছে যে, গাজায় এখন আর কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, অব্যাহত বোমাবর্ষণে তারা ঘরবাড়ি হারিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। মারওয়ান আল-সাফি নামে এক ফিলিস্তিনি জানান, প্রতিদিন তাদের চোখের সামনে মানুষ মরছে। তার ভাষায়, “আমরা জানি না কোথায় যাব। আমরা প্রতিদিন মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছি।” আরেকজন বাস্তুচ্যুত আহমেদ আওয়াদ বলেন, তিনি মর্টার হামলার মধ্যে দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে এসেছেন, কিন্তু এসে দেখেন এখানে খাবার নেই, পানি নেই, টয়লেট নেই, পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। একইভাবে আবেদআল্লাহ আরাম জানান, তার পরিবার তীব্র পানির সংকটে ভুগছে, শিশুরা অপুষ্টিতে কষ্ট পাচ্ছে, অথচ নতুন করে তাঁবু বা আশ্রয় পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।

ইসরায়েল দাবি করছে তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু গাজার সরকারি গণমাধ্যম বলছে, এটি কোনো সামরিক অভিযান নয় বরং একটি পরিকল্পিত গণহত্যা এবং জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার কৌশল। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল স্কুল, মসজিদ, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শহর ও আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। আল-কাওসার টাওয়ার সম্পূর্ণ ধ্বংসের ঘটনাও সেই প্রমাণ বহন করছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, মাত্র চার দিনে গাজা সিটির তাদের ১০টি ভবন ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে সাতটি স্কুল ও দুটি ক্লিনিকও ছিল। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, গাজায় আর কোনো নিরাপদ স্থান নেই, কেউ নিরাপদ নয়। ইউনিসেফও একই সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র টেস ইঙ্গ্রাম আল জাজিরাকে বলেন, কথিত মানবিক অঞ্চল আল-মাওয়াসিরেও প্রতিদিন শরণার্থীর ভিড় বাড়ছে, অথচ সেখানেও হামলা চলছে। তিনি জানান, এক নারীকে সন্তান জন্ম দিতে হয়েছে রাস্তায়, কারণ তার জন্য কোনো হাসপাতাল বা নিরাপদ আশ্রয় পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, ক্ষুধা এখন যুদ্ধের মতোই প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। পর্যাপ্ত খাবার ও ওষুধের অভাবে শিশুরা মারাত্মকভাবে ভুগছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, আগামী দিনে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হবে। ইতোমধ্যেই গাজায় মৃতের সংখ্যা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যা মানবিক বিপর্যয়ের এক নির্মম উদাহরণ।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একযোগে অস্ত্রবিরতির দাবি জানালেও ইসরায়েলের অভিযানে তার কোনো প্রভাব পড়ছে না। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, স্কুল, হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্রে হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন এবং তা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে। তবুও বিশ্ব শক্তিগুলোর কার্যকর ভূমিকা এখনো অনুপস্থিত।

গাজার মানুষ প্রতিদিন একই প্রশ্ন করছে—কোথায় নিরাপদ আশ্রয়? কোথায় শান্তি? যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষে তাদের জীবন এখন মৃত্যুর কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। শিশুরা খাবারের জন্য কাঁদছে, নারী-পুরুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটছে, আর প্রতিটি জায়গাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। এই যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের সমাপ্তি কোথায়, তার উত্তর কেউ দিতে পারছে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত