চিকিৎসায় সিঙ্গাপুরে নুর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৯৩ বার
চিকিৎসায় সিঙ্গাপুরে নুর

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গিয়েছেন। সোমবার সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। তার সঙ্গে রয়েছেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থোপেডিক ও স্পাইন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ হোসেন রাসেল। জানা গেছে, নুরুল হক নুর সিঙ্গাপুরের খ্যাতনামা মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ করবেন।

নুরুল হক নুর বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম। ডাকসুর ভিপি হিসেবে ২০১৯ সালে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে সরব ভূমিকা রেখে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নানা শারীরিক সমস্যায় তিনি ভুগছিলেন। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, নুর দীর্ঘদিন ধরে মেরুদণ্ড ও স্পাইনের সমস্যায় আক্রান্ত। দেশে চিকিৎসা নিলেও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে জটিল অর্থোপেডিক ও স্পাইন সার্জারির ক্ষেত্রে এ হাসপাতালকে নির্ভরযোগ্য মনে করা হয়। এখানকার চিকিৎসকরা আধুনিক যন্ত্রপাতি ও আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। নুরুল হক নুরের চিকিৎসার জন্যও বিশেষজ্ঞদের একটি দল আগেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নুরের সফরসঙ্গী চিকিৎসক ডা. সাজ্জাদ হোসেন রাসেল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নুরুল হকের দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যা চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “দেশে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, তবে সিঙ্গাপুরে উন্নত কিছু সুবিধা রয়েছে যা তার চিকিৎসার জন্য জরুরি। আমরা চাই, নুর দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করতে পারেন।”

নুরুল হকের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মীরা জানান, তিনি কিছুদিন ধরেই অসুস্থতার কারণে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কম সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটাচলা করতে গেলেই তাকে প্রচণ্ড ব্যথায় কষ্ট পেতে হতো। এর ফলে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি। সহকর্মীদের ভাষ্য, “তিনি সবসময় মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে চান, কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা তাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলছে। আমরা আশা করি, বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি দ্রুত ফিরে আসবেন।”

দেশ ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে নুরকে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন তার দলের নেতাকর্মী ও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা স্লোগান দিয়ে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। এ সময় নুরুল হক নুরও উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমি চিকিৎসার জন্য যাচ্ছি। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে এসে মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে পারি।”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নুরুল হক নুর একটি বিতর্কিত অথচ আলোচিত নাম। তার বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে, আবার সাধারণ মানুষের মধ্যে তার সমর্থনেরও ঘাটতি নেই। বিশেষ করে তরুণ সমাজে তার একটি বড় অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। ফলে তার অনুপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নুরুল হক নুরের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রা শুধু একটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং এটি তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরলে আবারও নতুন উদ্যমে মাঠে নামতে পারেন। তবে চিকিৎসার সময় ও সুস্থ হয়ে উঠতে কত সময় লাগবে তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুরুল হক নুরের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার অনুসারীরা দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন। ফেসবুক ও এক্স-এ (সাবেক টুইটার) অসংখ্য পোস্টে তাকে দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে। অনেকেই লিখেছেন, “দেশের তরুণদের আশা নুর ভাই দ্রুত ফিরে আসুন।”

অন্যদিকে, বিরোধী মহলের কিছু অংশ থেকে নুরের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রা নিয়ে ভিন্নমতও পাওয়া গেছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো হয়, তবে কেন রাজনৈতিক নেতাদের বিদেশে যেতে হয়?” তবে নুরের সমর্থকরা এর জবাবে বলেছেন, “জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। উন্নত সুবিধা যেখানে পাওয়া যায়, সেখানে যাওয়াই যৌক্তিক।”

গণঅধিকার পরিষদ সূত্র জানিয়েছে, নুরুল হক নুর চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরতে অন্তত কয়েক সপ্তাহ সময় নিতে পারেন। চিকিৎসকরা তার জন্য কিছু বিশেষায়িত পরীক্ষা ও সম্ভাব্য সার্জারির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক হলে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি দেশে ফিরতে পারেন।

রাজনৈতিকভাবে নুরুল হক নুরের এই সাময়িক অনুপস্থিতিকে অনেকে তার দলের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। গণঅধিকার পরিষদের কার্যক্রম এখন তার অনুপস্থিতিতেই চালিয়ে নিতে হবে। দলের তরুণ নেতারা বলেছেন, “আমরা আমাদের সভাপতির অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করব। তবে আমরা সবাই চাই, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন।”

চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের কাছে নতুন কিছু নয়। এর আগে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, জার্মানি বা ভারতে গিয়েছেন। এ ধারাবাহিকতায় এবার যোগ হলো নুরুল হক নুরের নামও।

সব মিলিয়ে, নুরুল হক নুরের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাত্রা তার ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, তিনি সুস্থ হয়ে দ্রুত দেশে ফিরবেন এবং আবারও মাঠে দাঁড়িয়ে দেশের তরুণদের নেতৃত্ব দেবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত