হল সংসদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতছেন ২১ নারী শিক্ষার্থী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫০ বার
হল সংসদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতছেন ২১ নারী শিক্ষার্থী

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদ নির্বাচনে এবারের পরিস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নির্বাচন প্রায় সম্পূর্ণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগোচ্ছে। এই নির্বাচনে মোট ২২ জন প্রার্থী ভোটবিহীনভাবে নির্বাচিত হতে চলেছেন, যাদের মধ্যে ২১ জনই নারী। শিক্ষার্থীদের অভিমত অনুযায়ী, ছাত্রী হলগুলোতে প্রার্থীর সংখ্যা কম হওয়ায় নির্বাচন কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নারীদের জন্য পাঁচটি হল রয়েছে। প্রতিটি হলে ১৪টি করে পদ থাকায় মোট পদের সংখ্যা ৭০। এই ৭০টি পদের জন্য মোট ১২৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ২১টি পদে কেবল একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তাঁরা ভোটাভুটি ছাড়াই নির্বাচিত হবেন।

ছাত্রদের হলের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। ছাত্র হলে মোট ৯টি হল রয়েছে, যেখানে প্রতিটি হলে ১৪টি করে পদ থাকায় মোট পদ সংখ্যা ১২৬। এসব পদে ৩৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উদাহরণস্বরূপ, শাহজালাল হলের রিডিং রুম, ডাইনিং ও হল লাইব্রেরি সম্পাদক পদে কেবল একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মোহাম্মদ তানভীর হাসান নামের ওই শিক্ষার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলা শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে। এই হলে সহসভাপতি (ভিপি) পদসহ ১১টি পদে কেবল একজন করে প্রার্থী রয়েছেন। কেবল ৩টি পদে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। শামসুন নাহার হলে সাতটি পদে একক প্রার্থী থাকায় তাঁরা ভোট ছাড়াই জয়ী হতে চলেছেন। অন্যান্য হলগুলোতে খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক, বিজ্ঞান-তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক এবং সমাজসেবা, যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে কেবল একজন প্রার্থী থাকায় এই পদগুলোতেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিশ্চিত।

নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে সহসভাপতি (ভিপি) পদে পারমিতা চাকমা একক প্রার্থী হিসেবে জয়ী হতে যাচ্ছেন। ‘হৃদ্যতার বন্ধন’ প্যানেলের হয়ে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। প্রথম আলোকে তিনি জানান, “শুরুতে মনে হয়েছিল আরও কেউ দাঁড়াবে। তবে শিক্ষার্থীরা আমার ওপর ভরসা রাখায় কেউ প্রতিদ্বন্দ্বী হননি। একাডেমিক চাপ ও পারিবারিক কারণও অনেক শিক্ষার্থী প্রার্থী না হওয়ার একটি প্রধান কারণ। আমি নিজেও প্রথমে তেমন আগ্রহী ছিলাম না, তবে পরিবার থেকে সমর্থন পাওয়ায় প্রার্থী হয়েছি।”

শামসুন নাহার হলে এবং প্রীতিলতা হলে বিভিন্ন পদে একক প্রার্থী থাকার কারণে আরও কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। এতে দেখা যাচ্ছে যে, নারীদের অংশগ্রহণ ন্যূনতম হলেও নির্বাচনের ফলাফলের উপর তাদের প্রভাব স্পষ্ট।

নির্বাচন কমিশনার এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী জানিয়েছেন, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা এখনও প্রস্তুত হয়নি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় এখনো আছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে যেসব পদে কেবল একজন প্রার্থী থাকবেন, তাঁরা বিজয়ী হিসেবে গণ্য হবেন।

হল সংসদে প্রার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের শীর্ষ তিনটি পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে। সহসভাপতি (ভিপি) পদে ২৩ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ২১ জন এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২২ জন প্রার্থী রয়েছেন। মোট ৪৬ প্রার্থী এই তিন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছিলেন ৪২৯ জন প্রার্থী, যার মধ্যে ১৯ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। চাকসুর ভোট গ্রহণ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১২ অক্টোবর। কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনের এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং হল সংসদের ভোটবিহীন জয়—দুটোর মধ্যে তফাৎ দেশের বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতির বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তুলছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব ও অন্যান্য প্রভাবকে প্রাধান্য দেয়। অন্যদিকে, ছাত্রদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং সমর্থন নিশ্চিত করা হয়।

এভাবে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদে নারী শিক্ষার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় সংসদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সুস্পষ্ট ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত হলেও জয় নিশ্চিত হওয়ায় এটি নারীর ক্ষমতায়নের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যেতে পারে।

ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব গ্রহণ আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একদিকে হল সংসদে ভোটবিহীন জয়, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংসদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা—এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও সমৃদ্ধ করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্বতন্ত্র বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তুলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত