প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ৫৮ বছর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। বুধবার তিনি বিশ্বের জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ভাষণ দেন, যা সিরিয়ার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এদিন দামেস্কসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশাল পর্দার সামনে শত শত মানুষ এই ভাষণ সরাসরি দেখেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, এটি সিরিয়ার কোনো প্রেসিডেন্টের দীর্ঘদিন পর সাধারণ পরিষদে সরাসরি বক্তব্যের প্রথম উদাহরণ।
ভাষণে আল-শারা ইসরাইলের নীতি এবং আচরণকে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আসাদ সরকারের পতনের পরও ইসরাইল আমাদের দেশের প্রতি হুমকি বন্ধ করেনি। তাদের নীতি সিরিয়া এবং এর জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এই অঞ্চলকে বিপন্ন করে তুলছে।” তিনি আরও বলেন, সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ আসাদ সরকারের তহবিল সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত মাদক ব্যবসা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে।
এটি ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর নুরদ্দিন আত্তাসি জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ ৫৮ বছর ধরে কোনো সিরীয় প্রেসিডেন্ট সরাসরি সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেননি। ১৯৬৭ সালের ওই যুদ্ধের পর দামেস্ক গোলান মালভূমির নিয়ন্ত্রণ হারায়, যা ১৯৮১ সালে ইসরাইল নিজেদের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
সিরিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও এই ভাষণকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ১৯৭০ সালে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আসাদ পরিবার ক্ষমতায় আসে এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে। সেই সময়ে দামেস্ক প্রায়শই সোভিয়েত ইউনিয়নের মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বেশ শীতল ছিল। গত কয়েক দশক ধরে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন, কিন্তু প্রেসিডেন্টের সরাসরি ভাষণ ছিল ব্যতিক্রম।
ভাষণে আল-শারা দেশের ইতিহাসে একনায়কতন্ত্রের সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের উল্লেখও করেন। তিনি বলেন, “ছয় দশক ধরে একনায়কতন্ত্রের মাধ্যমে ১০ লাখ মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সিরিয়া এখন বিশ্বের বিভিন্ন জাতির মধ্যে তার ন্যায্য স্থান পুনরুদ্ধার করছে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ভাষণ শুধু সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থার পরিচায়ক নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে সিরিয়ার অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কৌশলের ইঙ্গিতও বহন করছে। এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে আন্তর্জাতিকভাবে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।