জেরুজালেম বিজয়ের বার্ষিকীতে ঐক্যের বার্তা দিলেন এরদোয়ান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৯ বার
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম: জেরুজালেম বিজয়ের বার্ষিকীতে ঐক্যের বার্তা দিলেন এরদোয়ান

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান জেরুজালেম বিজয়ের ৮৩৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে আবারও মুসলিম বিশ্বের ঐতিহাসিক ঐক্য, সংগ্রাম এবং জেরুজালেমের মর্যাদা রক্ষার সংকল্পের কথা স্মরণ করালেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের এই পবিত্র নগরীকে ঘিরে মুসলমানদের আবেগ ও ঐতিহাসিক দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন।

এরদোয়ান তার বার্তায় উল্লেখ করেন, “জেরুজালেম বিজয়ের ৮৩৮তম বার্ষিকীতে, আমি এই পবিত্র শহরের দ্বিতীয় বিজয়ী সালাহউদ্দিন আল-আইয়ুবি এবং তার বীর সৈন্যদের করুণার সাথে স্মরণ করছি।” তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে জেরুজালেম শুধু একটি শহর নয়, বরং এটি আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং বিশ্বাসের প্রতীক। এর মর্যাদা রক্ষা করা শুধু অতীতের কোনো স্মৃতি নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দায়িত্ব।

তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এরদোয়ানের এ বক্তব্য শুধু একটি স্মরণ নয়, বরং সমকালীন আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জেরুজালেমের গুরুত্ব ও মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। দীর্ঘদিন ধরে এরদোয়ান জেরুজালেম ইস্যুকে তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং জেরুজালেমের মর্যাদা হরণের প্রচেষ্টা নিয়ে তিনি বহুবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব হয়েছেন।

ঐতিহাসিকভাবে জেরুজালেম বিজয় মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি মোড় ঘোরানো অধ্যায়। ১১৮৭ সালে সালাহউদ্দিন আল-আইয়ুবির নেতৃত্বে ক্রুসেডারদের কাছ থেকে এই নগরী পুনরুদ্ধার করা হয়। এই বিজয় শুধু সামরিক সাফল্য নয়, বরং ইসলামী ঐক্য ও ন্যায়বিচারের এক প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। সালাহউদ্দিন শুধু একজন যোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক দয়ার্দ্র হৃদয়ের শাসক, যিনি বিজয়ের পরও প্রতিপক্ষের প্রতি মানবিক আচরণের নজির স্থাপন করেছিলেন। এরদোয়ানের বার্তায় সেই স্মৃতি নতুন করে ফিরে আসে।

তুরস্কের রাজনীতিতে এরদোয়ানের নেতৃত্ব সবসময় ইসলামী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছে। তিনি বারবার মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে জেরুজালেম ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এরদোয়ানের এ ধরনের বার্তা শুধু ইতিহাস স্মরণ করানো নয়, বরং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার একটি কৌশলগত প্রয়াসও বটে। বর্তমান সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, গাজায় মানবিক সংকট, জেরুজালেমে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম বিশ্বের অবস্থান নিয়ে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, সেই প্রেক্ষাপটে এ বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ।

এরদোয়ান অতীতে বহুবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জেরুজালেমের মর্যাদা রক্ষার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তার বক্তব্যে সবসময় ফুটে ওঠে, জেরুজালেমকে শুধুমাত্র একটি ভৌগোলিক শহর হিসেবে দেখা যাবে না। এটি মুসলমান, খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও মুসলিম বিশ্বের কাছে এর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য অতুলনীয়। সেই কারণে জেরুজালেমের মর্যাদা রক্ষার লড়াই আসলে মুসলিম বিশ্বের আত্মপরিচয় রক্ষার লড়াইও বটে।

এরদোয়ানের বার্তায় ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি সমসাময়িক বাস্তবতাও প্রতিফলিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর ওপর আক্রমণ মুসলিম বিশ্বে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এই অবস্থায় তুরস্ক সবসময় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছে এবং রাজনৈতিক, কূটনৈতিকভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এরদোয়ানের এই ধরনের বক্তব্য মূলত মুসলিম বিশ্বের ভেতরে নেতৃত্ব প্রদর্শনের একটি প্রচেষ্টা। তিনি চান, তুরস্ক মুসলিম বিশ্বের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠুক। আর জেরুজালেম ইস্যুটি সেই প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রভাবশালী করে তুলতে পারে। ইতিহাসও প্রমাণ করে, মুসলিম বিশ্বের ঐক্য প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে জেরুজালেম।

জেরুজালেম বিজয়ের এ ধরনের বার্ষিকী শুধু স্মৃতিচারণ নয়, বরং তা বর্তমান বিশ্বের মুসলিম সমাজের জন্যও একটি বার্তা বহন করে। সেটি হলো—ঐক্য, ত্যাগ এবং দৃঢ়তার মাধ্যমে যে কোনো সংগ্রাম সফল করা সম্ভব। সালাহউদ্দিন আল-আইয়ুবির নেতৃত্ব থেকে শিক্ষা নিয়ে আজকের মুসলিম বিশ্ব যদি নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিভেদ দূর করতে পারে, তবে জেরুজালেমের মর্যাদা রক্ষা সম্ভব হবে।

তুরস্কের অভ্যন্তরে এরদোয়ানের এই বক্তব্য ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাকে সালাহউদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এরদোয়ান তার সমর্থকদের আবেগকে উজ্জীবিত করতে এবং তুরস্ককে মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের বক্তব্য দেন।

তবে যে দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা হোক না কেন, এরদোয়ানের জেরুজালেম বিজয়ের বার্ষিকীতে দেওয়া বার্তা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে, ইতিহাসের এই অধ্যায় শুধু অতীতের নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতেরও নির্দেশক। মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে জেরুজালেম ইস্যুটি এখনও কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত