বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এখন রাশিয়ার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৮৫ বার
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এখন রাশিয়ার

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপদেষ্টা এবং মেরিটাইম বোর্ডের চেয়ারম্যান নিকোলাই পাত্রুশেভ সম্প্রতি রাশিয়ার সামরিক ক্ষমতার বিষয়ে এমন মন্তব্য করেছেন। রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রোসিয়া–১-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাত্রুশেভ বলেন, “পেশাদার সামরিক কর্মকর্তারা ভালোভাবেই জানেন যে আমরা এখন বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় শক্তিশালী।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সবচেয়ে শক্তিশালী। কিন্তু এটি সঠিক নয়। আমাদের সেনাবাহিনী আরও শক্তিশালী এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে সম্পূর্ণ সক্ষম।” পাত্রুশেভ সতর্ক করে উল্লেখ করেন, “শুধু সেনাবাহিনীর শক্তি যথেষ্ট নয়। অভ্যন্তরীণ জনসমর্থন ছাড়া পশ্চিমা আগ্রাসন প্রতিরোধ করা কঠিন হবে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই দাবি ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট থেকে এসেছে। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই সংঘাতে পশ্চিমা দেশগুলোর বিপুল সমর্থন সত্ত্বেও রাশিয়া সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে রাশিয়া হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এসব প্রযুক্তি পশ্চিমা দেশগুলোর হাতে কার্যকরভাবে নেই বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।

রাশিয়ার সামরিক ভাণ্ডারে রয়েছে বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র, উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী নৌবাহিনী। বিশেষ করে এস-৪০০ ও এস-৫০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হাইপারসনিক অস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী পারমাণবিক সাবমেরিন দেশটির কৌশলগত অবস্থানকে দৃঢ় করেছে। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতাকে নতুন করে প্রমাণ করেছে।

পাত্রুশেভের মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক সামরিক ঘাঁটির নেটওয়ার্ক এবং আধুনিক নৌবাহিনীর কারণে ওয়াশিংটন এখনো অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে। তবে তারা স্বীকার করছেন, আঞ্চলিক সংঘাতে রাশিয়া প্রমাণ করেছে যে তারা সমানতালে বা কখনো কখনো অগ্রগামী শক্তি হিসেবে কার্যকর হতে পারে।

পাত্রুশেভ তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, “আমাদের বাহিনী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, দেশের জনগণের সমর্থন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এই শক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে না।” তার এই মন্তব্য রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং জাতীয় সমর্থন বজায় রাখার আহ্বান হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী হওয়ার দাবি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে অতিরঞ্জিত মনে করছেন, আবার কেউ বলছেন যে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তবে এটিই স্পষ্ট যে বর্তমান বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে রাশিয়া এখনো একটি কেন্দ্রীয় খেলোয়াড় এবং নিজেদের সামরিক শক্তিকে সামনে এনে তারা সেই অবস্থান আরও জোরালোভাবে প্রমাণ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত