প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
শিশু নাবিল বলছিলো…
”আমি বানর আর কুকুর কে খুব ভয় পাই কিন্তু রাস্তায় কুকুরের জন্য খেলতে পারিনা আর বানর আমার সিঁড়িতে মাঝে মাঝে আমার ঘরে ঢুকে যায়”
সিলেটের সড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বানর ও কুকুরের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা দিন দিন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) হলগুলোতে বানরের আক্রমণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাট উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাদ রহমান হল এবং সুহাসিনী দাস হলে শতাধিক ছাত্রী বানরের হামলার শিকার হয়েছেন। এই ঘটনায় হলজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে, শিক্ষার্থীরা নিরাপদে চলাফেরায় অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
বিবরণ অনুযায়ী, কিছু বানর এমন সাহসী হয়ে উঠেছে যে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করছে এবং শিক্ষার্থীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। শিশুরা খেলার সময়ও বানরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বানরের কামড়ে আহত শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষরণ দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে এদের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, তবে অনেকেই জানেন না আহত হলে কী করণীয়। এই পরিস্থিতি জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং হাসপাতালগুলোতে ভিড় বেড়েছে।
সিকৃবি প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে বন ভবন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছে। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সামিউল আহসান তালুকদার এবং বন বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. সানাউল্লাহ পাটোয়ারী, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন বিভাগের কাছে আবেদন জানানো হয় যে, বানরের আক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষার জন্য দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। বন বিভাগের প্রতিনিধিরা সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ জানান, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করতে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়াতে হবে।
ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম জানিয়েছেন, বন ও পরিবেশ সংক্রান্ত আইন থাকা সত্ত্বেও এই সমস্যা সহজে সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যেই ছাত্রী হলের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আহতদের সুচিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ভ্যাক্সিন প্রদানসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এছাড়া তিনি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও বন বিভাগের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমস্যা সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
ড. আলিমুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন, আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরে সচেতনভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা সচেষ্ট এবং বদ্ধপরিকর। তিনি আরও বলেছেন, বন বিভাগের সহায়তায় এবং প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে বানরের আক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
সিলেটের সাধারণ মানুষও কুকুর ও বানরের উৎপাত নিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। শহরের রাস্তাঘাটে ঘোরাফেরা করা স্বাভাবিক কুকুরগুলো কখনো কখনো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। এই বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনকে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।