রুশ হামলায় ইউক্রেনে একজন নিহত, কিয়েভে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫১ বার

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ রাতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। দফায় দফায় অন্তঃ বিরতির মাধ্যমে হামলা চলতে থাকে, যার ফলে শহরের অনেক এলাকা বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ আহত হয়। একই সময়ে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল জাপোরিজিয়া অঞ্চলে হামলায় এক সাত বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র খবর দিয়ে নিশ্চিত করেছে।

রাশিয়ার বিমান ও ড্রোন প্রতিরোধ করার প্রচেষ্টা চলাকালীনই কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিটসকো জানিয়েছেন, শহরের জ্বালানিসংক্রান্ত অবকাঠামোর ওপর আঘাত করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, বিদ্যুৎ-বিতরণ কেন্দ্র ও রক্ষণাবেক্ষণ স্টেশন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্নতার কারণে পানি সরবরাহও ব্যাহত হওয়ায় নগরের মানুষ একরাশ উদ্বেগ ও অন্ধকারে রাত কাটাচ্ছেন।

মেয়র ক্লিটসকো সতর্ক করে দিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলীয় জেলা এলাকা—বিশেষ করে কিয়েভের পার্শ্ববর্তী এলাকা—বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি জটিল। তিনি জানান, “শহরের বাঁধানো কাঠামোগত ক্ষতি—বাড়ি, অবকাঠামো—সবই হামলার চক্রান্তে পতিত হয়েছে। আমরা দ্রুত পুনরুদ্ধার ও মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”

আহত হয়েছেন কমপক্ষে নয়জন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের কেউ সাময়িক চিকিৎসা নিচ্ছেন, কেউ বা গম্ভীর অবস্থায় রয়েছেন। এই হামলার ধাক্কায় সাধারণ নাগরিকদের সহিংস ঘটনার শিকার হওয়ার ভয়placেদর্শক হয়ে দাড়িয়েছে।

উদিকে, কিয়েভের অনেক অংশে বিদ্যুত্ বন্ধ থাকায় অনেক বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ, পানি ও দৈনন্দিন মৌলিক সেবা বঞ্চিত তাদের রাত কাটাতে হয়েছে অন্ধকারে — মাঝে মাঝে বেক্সামান মানুষ হতাশায় ঘাড় নিচ্ছে।

দক্ষিন-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিজিয়া এলাকার খবরের বরাতে জানা যায়, স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, রুশ হামলায় সাত বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। শিশু তার বাড়িতে ছিল — হঠাৎ হামলায় সে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা শোকাহত।

মস্কো হামলাগুলোর দিকে সরব রয়েছে। সামাজিকমাধ্যমে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পোস্ট করেছেন যে, মাত্র এই রাতে ৪৫০টি ড্রোন এবং ৩০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এমন ধরনের এক পরিকল্পিত আক্রমণ, যা সরাসরি জানাল দিচ্ছে, জ্বালানি ও অবকাঠামোর ওপর আস্থা থাকা দোষীর কার্যকলাপ।

ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী সভিতলানা হ্রিঞ্চুক জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ মেরামতকারী দল এখন রাতভর কিয়েভ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সমিশন লাইন, সাবস্টেশন ও বিতরণ কেন্দ্র দ্রুত পুনঃসংযোগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই হামলার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে — কিয়েভের ওপর এই আক্রমণ কতদূর পরিকল্পিত? তারা কি সরাসরি নাগরিক অবকাঠামোকে নিশানা করেছে? অনেক সাধারণ মানুষ বলছেন, এক কথায়, তারা সব বিভাগে চাপে রাখতে চায়: “আমাদের ঘরের আলো, আমাদের বাতি—সবই তারা নিভিয়ে দিতে চাইছে।”

এই দুঃসহ ঘটনার মধ্যে, মানুষ এক ধরনের সংগ্রামে আবদ্ধ। স্বাভাবিক জীবন বিরতি, শিশুর cry, রাস্তায় অন্ধকার — সব মিলিয়ে বিরামহীন ভয়।গুলি ও বিস্ফোরণ শব্দে রাত কাটিয়ে দেওয়া মানুষ আজ প্রশ্ন করছে — পৃথিবী কি কখনো শান্ত হবে?

এই হামলার প্রভাব শুধু আজকের রাতেই শেষ হবে না। আহতদের চিকিৎসা, অবকাঠামোর পুনর্নির্মাণ, মানুষের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনা—সবই দীর্ঘ সংগ্রাম। আন্তর্জাতিক মহলকেও এখন দৃষ্টি দিতে হবে ইউক্রেনের ওপর নৃশংসতার এই ঢেউয়ের বিরুদ্ধে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত