পর্তুগাল-নরওয়ে জয়, ইতালির বিশ্বকাপ স্বপ্ন বাঁচল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৫ বার
পর্তুগাল-নরওয়ে জয়, ইতালির বিশ্বকাপ স্বপ্ন বাঁচল

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

শনিবার, ১১ অক্টোবর, ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক উত্তেজনাপূর্ণ দিন ছিল। ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মঞ্চে পর্তুগাল, নরওয়ে ও ইতালি নিজেদের খেলার দক্ষতা এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞা প্রদর্শন করে ম্যাচগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয়। পর্তুগাল জাতীয় দল, রোনালদোর নেতৃত্বে, শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলের মাধ্যমে রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডকে পরাজিত করে। একই সময়ে, নরওয়ে তার স্টার স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের হ্যাটট্রিকের ঝড়ে ইসরায়েলকে উড়িয়ে দেয় এবং শীর্ষস্থান ধরে রাখে। অন্যদিকে, ইতালি এস্তোনিয়াকে হারিয়ে ১২ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপে খেলার আশা ধরে রাখে।

পর্তুগালের ম্যাচের শুরু থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে রোনালদো প্রথমার্ধের ১৭ মিনিটে একটি শক্তিশালী শট করেন, যা পোস্টে লেগে ফিরতি বলে আসে। এরপর বক্সের মধ্যে থাকা তার সতীর্থ বের্নার্দো সিলভার লক্ষ্যভ্রষ্ট শট দলের আক্রমণকে হতাশার মধ্যে ফেলে দেয়। পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডরা আয়ারিশদের শক্ত রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হন, ফলে সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। ৭১ মিনিটে পর্তুগাল পেনাল্টি পাওয়ার পরও রোনালদোর সেই সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। ম্যাচের মূল নাটক আসে ৯১ মিনিটে, যখন রুবেন নাভাসের পাস থেকে মিডফিল্ডার রুবেন নেভেস দলের হয়ে নির্ধারক গোল করেন। বন্ধু জোতার জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নামা নেভেসের এই গোলে পর্তুগাল শেষ পর্যন্ত জয়ের স্বাদ পায়। ম্যাচ শেষে রোনালদো ও ফার্নান্দেসরা জয়লাভের আনন্দে উল্লসিত হন, যা দলের বিশ্বকাপের আশা আরও জোরালো করে।

অপরদিকে, নরওয়ের খেলা ছিল একপ্রকার গোল উৎসব। ম্যাচের শুরু থেকেই নরওয়ে আধিপত্য বিস্তার করে। ২৮ মিনিটে ইসরায়েলের ডিফেন্ডার ইদান নাহমিয়াস আত্মঘাতী গোল করে নরওয়ের পক্ষে প্রথম সুযোগ তৈরি করেন। ঠিক এক মিনিট আগে আর্লিং হালান্ড নিজের প্রথম গোলের দেখা পান। বিরতিতে নরওয়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে হালান্ড তার আধিপত্য আরও প্রমাণ করেন। ৬৩ মিনিটে আবারও গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান, এবং ৭২ মিনিটে হেডে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। এর ফলে নরওয়ের বিশ্বকাপের সম্ভাবনা ১৯৯৮ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে।

দিনের তৃতীয় ম্যাচে ইতালি এস্তোনিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মর্যাদা ধরে রাখে। ম্যাচের শুরুতেই ফেদরিকো কল্যাণে ইতালি লিড নেয়। ৩০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সুযোগ হাতছাড়া হলেও আট মিনিট পরেই গোলের ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। বিরতির পরও ইতালি আক্রমণ অব্যাহত রাখে। ৭৪ মিনিটে স্পিনাজ্জোলার পাস থেকে ইন্টার মিলানের ২০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার পিও এসপোসিতো দলের তৃতীয় গোলটি নিশ্চিত করেন। যদিও এস্তোনিয়া পরে একটি গোল শোধ করতে সক্ষম হয়, তা ব্যবধান কমানোর চেষ্টাই ছিল। এই জয়ে ইতালি ১২ বছর পর বিশ্বকাপে খেলার আশা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনটি দলেরই বিশ্বকাপের সম্ভাবনা শক্তিশালী হলো। পর্তুগাল, রোনালদোর লিডারশিপে শেষ মুহূর্তে মনোবল ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা দলের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মানসিক জয়। নরওয়ে, আর্লিং হালান্ডের অসাধারণ খেলায়, বিপক্ষকে তাড়িয়ে দিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি তাদের সম্ভাব্য বিশ্বকাপের পথকে আরও সুগম করেছে। ইতালি, যা দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিল, সেই বাধা অতিক্রম করে আবার বিশ্বমঞ্চে জায়গা করার স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, আগামী ম্যাচগুলোতে এই তিনটি দল কেমন প্রস্তুতি দেখাবে। ফুটবলপ্রেমীরা আশা করছেন, পর্তুগাল, নরওয়ে ও ইতালি যেন ধারাবাহিকভাবে তাদের খেলায় উন্নতি করে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়। অনেকে বলছেন, রোনালদো এবং হালান্ডের মতো খেলোয়াড়রা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎসাহ এবং মানসিক শক্তি যোগাচ্ছেন, যা দলকে চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করছে।

অতএব, শনিবারের এই খেলাগুলো ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য উদ্দীপনার দিন ছিল। উত্তেজনা, নাটক, এবং নির্ধারক গোল—সবকিছু মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা শনিবারের ম্যাচগুলো দীর্ঘদিন মনে রাখবে। পর্তুগাল, নরওয়ে এবং ইতালি সবাই বিশ্বকাপের মূলপর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা ধরে রাখতে গিয়ে জাতীয় দলের নতুন উদ্দীপনা, খেলোয়াড়দের দক্ষতা এবং দলের মনোবল প্রদর্শন করেছে।

শেষ পর্যন্ত, এই জয়ের মধ্য দিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা আরও একটি নিশ্চিত বার্তা পেয়েছে: বিশ্বকাপের স্বপ্ন কখনও সহজভাবে আসে না, কিন্তু শক্তিশালী দল, দৃঢ় মনোবল এবং সঠিক সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যেকোনো দলের জন্য সম্ভাব্য জয় নিশ্চিত করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত