প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় গণহত্যার দায়ীদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচারের বিনিময়ে কোনো ধরণের শান্তি গ্রহণ করা যাবে না, এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার ক্যাডেনা এসইআর রেডিওকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই বক্তব্য দেন এবং বার্তা সংস্থা আনাদোলুর মাধ্যমে তা প্রচারিত হয়।
সানচেজ বলেন, “শান্তি মানে গণহত্যাকে ভুলে যাওয়া নয়; এর অর্থ দায়মুক্তি নয়। গাজায় সংঘটিত গণহত্যার মূল হোতাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আনতে হবে।” স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর মতে, শান্তি ও পুনর্গঠন কার্যক্রম কেবল ধ্বংসের মেরামত নয়, বরং দুই রাষ্ট্রের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি সুযোগ।
তিনি আরও বলেন, স্পেন ও ইউরোপ গাজায় শান্তি প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। “এতে শুধু পুনর্গঠন নয়, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ও শান্তি প্রক্রিয়ার জন্যও আমাদের সক্রিয় অবদান থাকবে।”
গাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় স্প্যানিশ সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি সানচেজ। তবে স্পেন এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে যা দ্বিপাক্ষিক শান্তি প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মাদ্রিদ ইসরাইলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখবে যতক্ষণ না যুদ্ধবিরতি সুসংহত হয় এবং শান্তির প্রক্রিয়াটি নিশ্চিতভাবে এগিয়ে যায়। “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে সহিংসতা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আমাদের কাছে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে খোলামেলা সংলাপ এবং দুটি রাষ্ট্রের স্বীকৃতির সুযোগ রয়েছে,” বলেন সানচেজ।
সানচেজের মতে, মিশরে অনুষ্ঠিত শান্তি সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যেখানে গাজার পুনর্গঠন, মানবিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, সহিংসতা বন্ধ হওয়ায় এটি একটি অনন্য সুযোগ যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শান্তি প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, “গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বহু মানুষ জীবন ও বসবাস হারিয়েছে। আমাদের দায়িত্ব হল তাদের পুনর্বাসন এবং মানবিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।”
সানচেজ আশা প্রকাশ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় গাজার পুনর্গঠন ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। তিনি বলেছেন, “শান্তি একটি প্রক্রিয়া। এটি তাত্ক্ষণিকভাবে অর্জন করা যায় না, বরং এটি নিয়মিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।”
এই সাক্ষাৎকারে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী বারবার জোর দিয়েছেন যে, গণহত্যার সঙ্গে জড়িত দায়ীদের দায়মুক্তি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। শান্তি ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। পাশাপাশি, গাজার পুনর্নির্মাণের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকারও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।
গাজার শান্তি প্রক্রিয়ায় সানচেজ স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কেবল পুনর্গঠন বা সাময়িক সহায়তা নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনার প্রক্রিয়া। স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যাতে গাজায় স্থায়ী শান্তি ও ন্যায়বিচারের পথ সুসংহত হয়।