ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৬ বার
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার উত্তর নিশ্চিন্তপুর গ্রামে এক গৃহবধূ সাদিয়া আক্তার (২১) ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঘটনায় গ্রামে নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে।

নিহতের পিতা আব্দুল হাকিম বেপারী একই গ্রামের আবুল বাবুর্চির ছেলে আরিফ মুন্সি, সামছুদ্দিন সরকারের ছেলে মোস্তফা কামাল এবং মোশারফ হোসেনের ছেলে মামুন বেপারীর নামে মতলব উত্তর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নাছির মিয়া সরাসরি এই ঘটনায় জড়িত থাকলেও এজাহারে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নাছির মেম্বার মামলার ৩ নম্বর আসামি মামুন বেপারীর ফোনে সাদিয়ার কিছু এডিট করা ছবি পাঠান। পরে তিনি সাদিয়ার পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং হুমকি দেন, টাকা না দিলে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, নাছির মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর কিছুদিন আড়ালে থাকলেও সম্প্রতি আবার সক্রিয় হয়েছেন। স্থানীয়রা আরও জানান, তিনি নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক কারবারেও জড়িত।

নাছির মেম্বার বিষয়টি প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘সাদিয়ার আগের স্বামী আমার কাছে কিছু ছবি পাঠিয়েছিল। আমি তা মামুনকে দিয়ে তাদের পরিবারকে সতর্ক থাকতে বলেছিলাম। তবে এ ছবিগুলো দিয়ে কেউ চাঁদা দাবি করেছে এমন কিছু জানি না।’

আসামি মোস্তফা কামাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এলাকায় কাজীর কাজ করি। কিছুদিন আগে কাজীর বৈধতা নিয়ে মামলা হয়েছিল, আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজন প্রতিশোধ নিতে আমাদের এই আত্মহত্যার মামলায় জড়িয়েছে।’

নিহতের পিতা আব্দুল হাকিম বেপারী অভিযোগ করেন, ‘ওরা আমার মেয়ের ছবি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। না দিলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে আমার মেয়ে মানসম্মান হারানোর ভয়ে বিষপান করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আমি তাদের কঠোর শাস্তি চাই।’

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক সংবাদদাতাকে জানান, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্তে যারই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত তদন্ত ও আইনের পূর্ণ প্রয়োগ ঘটিয়ে সাদিয়ার পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। এই ঘটনার মাধ্যমে ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিপীড়ন ও চাঁদাবাজি ঠেকানোর গুরুত্বও浮প্রকাশ পাচ্ছে। সাদিয়ার মৃত্যু শুধু পরিবারের জন্য নয়, সমগ্র এলাকার জন্য গভীর শোকের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ঘটনায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষত অনলাইন হুমকি, ব্ল্যাকমেইল এবং মানহানির শিকারদের জন্য কার্যকর আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রণয়নকারীদের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত