সরকার পরিচালনার সময় কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে, হাসিনাও করেছেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৭ বার
সরকার চালাতে গিয়ে কিছু ভুলত্রুটি হয়, হাসিনাও করেছেন

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

রাষ্ট্রনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন তার আইনজীবী আমির হোসেন। সোমবার বেলা ১টার দিকে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মাজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি বলেন, সরকার পরিচালনার সময় কিছু ভুলত্রুটি স্বাভাবিক, এবং সেই ভুলের মধ্যে শেখ হাসিনাও ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপরাধ থাকার দাবি জানিয়ে খালাস প্রার্থনা করেন।

আমির হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। প্রসিকিউশন চার্জ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা স্পষ্টভাবে দেখেছে। তাই তিনি আশা করছেন, ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও তাঁর সহ-আসামী আসাদুজ্জামান খান কামালের খালাস নিশ্চিত করবে।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ পাঁচ কার্যদিবস ধরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানায়। এছাড়া তাদের সম্পত্তি বিক্রি করে আহত ও নিহত জুলাইযোদ্ধাদের ক্ষতিপূরণের নির্দেশও প্রার্থনা করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন যিনি আসামি থেকে রাজসাক্ষী হয়েছেন, তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গনেও চাপ বিরাজ করছে, যেখানে আদালতের রায় কেবল ব্যক্তি নয়, জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকেও প্রভাবিত করতে পারে।

আইনজীবী আমির হোসেনের যুক্তি অনুসারে, সরকার পরিচালনার জটিলতায় ছোটখাটো ভুল হওয়া স্বাভাবিক, এবং সেই ভুলকে কেন্দ্র করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। ট্রাইব্যুনাল-১-এর এই শুনানি নতুন মাত্রা যোগ করেছে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায়, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষ ও প্রতিরক্ষার যুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সাংবাদিকদের কাছে আলোচনায় তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার ওপর অভিযোগগুলি রাজনৈতিকভাবে এবং কার্যত অযৌক্তিক, তাই ন্যায়পরায়ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় খালাস হওয়া উচিত। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত আগামী দিনে এই মামলার চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করবে।

এদিকে মামলার চার্জশীট অনুযায়ী, আসামিরা বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার জন্য দায়ী করা হয়েছে। আইনজীবী যুক্তি দেন, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে এবং তার ভিত্তিতে খালাস দাবি করা হচ্ছে।

ট্রাইব্যুনালে এই শুনানি রাজনৈতিক ও আইনগত উভয় দিক থেকেই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। মামলাটির চূড়ান্ত রায় দেশজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রসিকিউশন ও প্রতিরক্ষা উভয় পক্ষের যুক্তি জনগণের নজর কাড়ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত