এক যুগে ১ লাখের বেশি প্রাণহানি, সংকট অব্যাহত প্রতিকারের চেষ্টা নাই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৯ বার
“এক যুগে ১ লাখের বেশি প্রাণহানি: সড়কে নিরাপত্তার সংকট অব্যাহত”

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশে গত ১২ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১ জন। তথ্যটি মঙ্গলবার জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি সড়ক দুর্ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে এর জন্য সরকারের দুর্নীতি ও ভুলনীতিকে দায়ী করেছেন।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সড়ক পরিবহন খাতে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা চলত। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক, কিছু দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তার অনিয়মের কারণে সড়কে বিশৃঙ্খলা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক, চালকের মাদকসেবন, বেপরোয়া গতি এবং অযোগ্য চালকের হাতে লাইসেন্স প্রদান সহ নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এসব কারণে এক যুগে ৬৭ হাজার ৮৯০টি দুর্ঘটনায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১ জন আহত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতি শুধু গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করে এই তথ্য সংগ্রহ করেছে, তবে দেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র অনুযায়ী হতাহতের সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি হতে পারে। তিনি আন্তর্জাতিক তুলনা করে বলেন, একই সময়ে ইসরাইল-ফিলিস্তিন যুদ্ধে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬৭ হাজার এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৪৫ হাজার, যা বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মানুষের সংখ্যা থেকে অনেক কম।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে অগ্রগতি করেছে, তবে দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সম্প্রসারণ করা হলেও সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি বেড়েছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা এবং স্থানীয়ভাবে নসিমন-করিমন, মাহিন্দ্রা ও পিয়াজিও পিকআপ ভ্যানকে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে বাস নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছে এবং সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে গেছে।

তিনি দেশের ইতিহাসে সড়ক মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্বে থাকা ওবায়দুল কাদেরের কার্যক্রমকে দায়ী করে বলেন, তার নেতৃত্বে সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের পরও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগের নীতি ও কৌশল অপরিবর্তিত থাকায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হয়নি। তিনি সতর্ক করেন, যদি পরিবহন সেক্টর সংস্কার না করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি আরও বাড়বে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিবন্ধন দিয়ে রাস্তায় নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে অজ্ঞতা, অনভিজ্ঞতা ও নানা গলদ থাকায় এক বছরের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহর অচল হয়ে যাবে। তিনি সুপারিশ করেন, সরকারি উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ প্রতিটি বিভাগীয় শহরে কমপক্ষে দুটি বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট লেন চালু করতে হবে। ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করলে সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমবে, মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে এবং দেশের আন্তর্জাতিক ইমেজ উন্নত হবে।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের এই দিনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এক দশকের ধারাবাহিক সড়ক হিংসা ও দুর্ঘটনার প্রবণতা থামানো সম্ভব হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত