ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলেই অ্যানফিল্ডে রিয়ালের পতন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬ বার
অ্যানফিল্ড জয়ে ব্যর্থ রিয়াল মাদ্রিদ

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউরোপের সবচেয়ে বিরল ক্লাবসমর্থিত ম্যাচে আজ রাত টি চমক হিসেবে ছিল—Liverpool এবং রিয়াল মাদ্রিদের মাধ্যমে। দুই দানব ক্লাবের মুখোমুখি লড়াই সবসময় উত্তেজনা দিয়ে ভরা। এমন এক মধ্যরাতে ইংল্যান্ডের আনফিল্ড স্টেডিয়ামে রিয়াল মাদ্রিজের জন্য অপেক্ষা করছিল কঠিন পরীক্ষা: দুই দলই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপপর্বে নিজেদের অবস্থান সুজোরালো রাখতে মুখিয়ে ছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষায় রিয়াল মাদ্রিজ হেরে যায়। আনফিল্ডে ১-০ গোলে পরাজিত হন তারা, প্রথমবারের মতো এই আসরের গ্রুপপর্বে।

বিশ্বকাপ জয়ের দল হওয়ার গৌরবশালী ইতিহাস, লা লিগায় সিংহাসন রক্ষা—সবকিছুর পরও এই ফল যেন একধরনের সতর্কবার্তা রিয়ালের জন্য। রিয়ালের রক্ষণভাগে একজন ব্যক্তি ছিলেন একক কবচ: Thibaut Courtois। ম্যাচজুড়ে একরাশ সেভ করলেন তিনি, প্রতিপক্ষের একাধিক আক্রমণ থামিয়ে রাখলেন। প্রথমার্ধেই চারবার বল থামিয়ে রাখলেন, দলকে গোলব্যাহত রাখলেন। কিন্তু এক বল ছিল যে, সেই গোলেই রিয়ালের জয়ধ্বনি হয় না।

৬১ মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত। আনফিল্ডের উত্তেজনা সীমাহীন। রাইট ফ্ল্যাংক থেকে দেওয়া এক ক্রস হেডে জালে ঢুকে যায়। গোলটি করেন Alexis Mac Allister। উৎস ছিল এক নিখুঁত ফ্রি-কিক, অ্যাসিস্ট করে Dominik Szoboszlai। হেডে বল জোরালোভাবে জালের কোণায় গড়িয়ে যায় এবং রিয়াল মাদ্রিজের প্রথম ভাগ হয়নি উন্নতিরও। সেই এক বাস্তবতাই ছিল বড় ব্যথা।

ম্যাচ পরিসংখ্যানই বলছে বেশ কিছু কথা: যুগলের অধিকার ছিল রিয়ালের কাছে বলের নিয়ন্ত্রণে—৬১ শতাংশ বল রয়েছে রিয়ালের দখলে, কিন্তু গোলের শট মাত্র ২টি ছিল পোস্টের মধ্যে। তুলনায় লিভারপুলের ১৭টি শটের মধ্যে ৯টি ছিল পোস্টভিত্তিক। রিয়ালের রক্ষণাবলম্বীদের সামনে একরাশ কথা বলছিল—আকর্ষণ সবসময় বলাঘেরা হয় না। রিয়াল মাদ্রিজের ব্যাটারদের মধ্যে সক্রিয় ছিলেন না Kylian Mbappé ও Vinícius Júnior। উদ্দেশ্য ছিল গোল করা, বাস্তবতা ছিল শূন্য। গোলহীনেরা এমন অবস্থায় দাঁড়ান যেখানে তাদের নাম মনেই রাখা হয় না বলেই মনে হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ যেন আরও সাক্ষ্য দিচ্ছিল রিয়ালের বিপরীতে। ৮৬ মিনিটে আসে এক বিতর্কিত মুহূর্ত—ডান প্রান্ত থেকে শট আসে, সে শট প্রথমে কোর্টোয়ায় থামানো হয়, ফিরতি বলে রিয়ালের ডিফেন্স ভাঙতে না দিয়ে মিলিতাও ফেরান।

এই ফল রিয়ালের জন্যও মর্মান্তিক। গ্রুপপর্বে চার ম্যাচে ৯ পয়েন্ট থাকলেও তারা গ্রুপের পাঁচ নম্বরে রয়েছে। এবং সম ম্যাচে খেলা লিভারপুলও ৯ পয়েন্টে আছে, তবে গোল ব্যবধানে সামান্য এগিয়ে আছে রিয়াল। তবে স্থিতিশীলতার চিহ্ন আজ দেখা যায়নি রিয়ালের ড্রেসিংরুমে।

ম্যাচ শেষে কোচ Xabi Alonso বলেন, “আমরা নির্ঝঞ্ঝাট শুরু করেছিলাম, তবে বিশ্লেষণ বলছে বলের দখল সব হয় না।” অন্যদিকে লিভারপুল কোচ Arne Slot বললেন, “আমরা জানি এই ধরনের ম্যাচে শিরোপা অথবা ক্রান্তিকালের লড়াই দেওয়া হয়—আজ আমরা সেটাই দিয়েছি।”

অনুঘটক হয়েছে এক বিশেষ বিষয়—এই ম্যাচে ফিরেছেন ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ড। রিয়ালের হয়ে আসিফ তিনি আনফিল্ডে উপস্থিত হলেন। তার প্রতি আনফিল্ড উড়িয়েছে রাগ ও আতঙ্ক মিশ্রিত হূর্ণিশ্বাস। প্রত্যাবর্তনের ঘটনা খেলা হিসেবে নয়, আবেগ হিসেবে ছিল সবচেয়ে বেশি দাগ কেটেছে।

তবে এই হারে রিয়ালের ঘাবড়ানোর কারণ নেই বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন ফরম্যাটে গ্রুপপর্বের ফল একদমই শেষ কথা নয়। তবে এই হার মানে হলো—দুর্নিবার মুহূর্তগুলোই আজ রিয়ালের ঘাড়ে দাঁড়িয়েছে। রক্ষণে কঠোরতা, আক্রমণে কার্যকারিতা—সব মিলিয়ে আজ কিছু কম দেখিয়েছে তারা।

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা গেছে—আনফিল্ডের জ্বালিয়ে দেওয়া উত্তেজনায় আজ রিয়ালের ক্রিকেটাররাও এক তপ্ত অনুভূতির মধ্য দিয়ে গেছেন। হয়তো তারা নিজেরাই জানতে পেরেছেন যে শুধু নাম বসানো আর বড় ম্যাচে বরাবরের মতো এগিয়ে যাওয়া যথেষ্ট নয়। তাদের হোল্ডিং ব্যাকায়ামেন্ট আজ কঠোর বার্তা দিয়েছে—পরের রাউন্ডের প্রস্তুতি এখন শুধু অবস্থানে না, মনোবলেও গড়া প্রয়োজন।

এখন প্রশ্ন হলো—এই হার কি রিয়ালের জন্য বোধোদয় হিসেবে কাজ করবে, নাকি এগিয়ে গমগমে ধ্বংসের সূচনা হবে? দলটি যখন বলের দখল পায়, তখন অপেক্ষা থাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য, সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য। আজ সেই অপেক্ষা ফলপ্রসূ হয়নি। কিন্তু হার মানেই শেষ কথা নয়। রিয়ালের ইতিহাস বড়—এর মানে হলো তারা বারবার উঠে এসেছে।

আগামী ম্যাচগুলো এবার অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই হারের পর রিয়ালের হাতে রয়েছে সময়, প্রতিফলন ও সংশোধনের সুযোগ। আর লিভারপুলের জন্যও এটি মনে করিয়ে দিচ্ছে—যেখানে তারা শক্ত অবস্থায় আছে, সেখানে হার এড়িয়ে চলা বড় কথা।

স্রেফ ফল নয়, এই ম্যাচ signalling করেছে এক জঙ্গলে—নামই বড় সব সময় জিতিয়ে দিতে পারে না, প্রস্তুতিই তা করে। রিয়ালের ফুটবল বিশ্বে এমন এক রাতের স্মৃতি খোদাই করে রেখেছে। আজ তারা হারেছে, তবে হার মানে শেষ কথা নয়। মাঠের মাঝে লড়াই থামেনি—এটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা মাত্র।

আজকার এই বাদল রাতের শেষে অ্যানফিল্ডে উদিত হলো এক নতুন রোদ—লিভারপুলের গর্জন আর রিয়ালের অন্তর্মুখী সাক্ষাৎ। হিমকি থাকার পরও তারা দাঁড়িয়ে যাবে, কারণ বৃহৎ ইতিহাস বড় যে জয় থেকে নয়, পরাজয়ের পর অবিচল উঠে দাঁড়ানোর সাহস থেকেও গঠিত হয়। রিয়ালের পরবর্তী জয় কি আসবে দ্রুত? কি তার ছায়া থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন এক দল হয়ে উঠবে যা হার মানেই শুধু রূপান্তর নেয়? উত্তরগুলো অপেক্ষায় রয়েছে, পাশাপাশি রিয়ালের আগামী দিনগুলোও।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত