সিলেটে ট্রাকচাপায় অটোরিকশা চালক নিহত, আহত চার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯ বার
সিলেটে ট্রাকচাপায় অটোরিকশা চালক নিহত, আহত চার

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিলেট, ৫ নভেম্বর — শহরের খাদিমনগর এলাকায় বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে বালুবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক নিহত হয়েছেন। এ সময় অটোরিকশার চার যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম মুন্না মিয়া, তিনি জৈন্তাপুর উপজেলার উমনপুর চিকনাগুল গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই আশপাশের লোকজন সাহায্যে ছুটে যান এবং আহতদের উদ্ধার করতে চেষ্টা করেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে খাদিমনগর এলাকায় অটোরিকশাটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে দম্পটে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে রাখেন এবং আহতদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক মুন্না মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তার মরদেহ মর্গে রাখা হয়। আহত চারজনকে যথাযথ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে দুঃখ, শোক এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পথচারীরা জানান, খাদিমনগর এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহন চলাচল করে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় থাকে। বিশেষত সকালে স্কুল-কলেজযাত্রী ও স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের সময়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা মনে করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ট্রাকটির গতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল এবং ওই সময় অটোরিকশাটি সড়কের বাম পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার সময় অটোরিকশা চাকার নিচে চাপা পড়লে চালকসহ যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ট্রাক চালক ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরে পুলিশ ট্রাকটি আটক করে তদন্ত শুরু করে।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ট্রাকের চালককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং স্থানীয়দেরকে সড়কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া তারা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ এবং সেতু-পুলিশের প্রতিবেদন সংগ্রহ করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। ভারী যানবাহনের তদারকি ও সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

মুন্না মিয়ার পরিবার শোকে কাতর হয়ে পড়েছে। নিহতের পিতার বরাত দিয়ে জানা যায়, মুন্না মিয়া ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তিনি স্থানীয়ভাবে অটোরিকশা চালাতেন এবং পরিবার তাদের জীবিকার জন্য তার ওপর নির্ভর করত। পরিবার আশা করছে, দুর্ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষ এই দুর্ঘটনার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় গণমানুষ প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, প্রতিদিন এমন দুর্ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ভুগবে এবং জীবনের ঝুঁকি বাড়বে।

সংক্ষেপে, খাদিমনগর এলাকায় ট্রাকচাপায় অটোরিকশা চালক মুন্না মিয়ার মৃত্যু ও চার যাত্রীর আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় ও প্রশাসনিক মহল শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই দুর্ঘটনা সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বকে পুনঃউজ্জীবিত করেছে। “একটি বাংলাদেশ অনলাইন” পাঠকদের জন্য এই খবর মানবিক ও বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেছে, যাতে ঘটনার প্রভাব ও প্রেক্ষাপট স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত