প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন এলাকায় খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও তার সহযোগী মো. ফয়সালের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। এটি মারধর ও এসিড নিক্ষেপের ঘটনার পর নতুন এক আইনি উদ্যোগ। মামলা করেন ডিপজলের ভক্ত রাশিদা আক্তারের স্বামী আব্দুল মজিদ। মামলাটি বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম মিজবাহ উর রহমানের আদালতে দায়ের করা হয়। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বাদীপক্ষের আইনজীবী কাইয়ুম হোসেন নয়ন সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, আদালত পিবিআইকে তদন্তে দায়িত্ব প্রদান করেছেন এবং তদন্ত শেষ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৮ জুলাই ডিপজল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মারধর ও এসিড নিক্ষেপের অভিযোগে রাশিদা আক্তার মামলা দায়ের করেন। আদালত এই মামলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে তদন্তের নির্দেশ দেন।
তবে মামলাটি দায়েরের পর ডিপজল ও তার বাহিনী বাদীর পরিবারের কাছে হুমকি দিতে থাকে। ভয়ে রাশিদা আক্তার দারুস সালাম থানার এলাকায় থেকে যাত্রাবাড়ীতে চলে যান। অভিযোগে বলা হয়েছে, ৪ সেপ্টেম্বর ডিপজল ও তার বাহিনী আব্দুল মজিদের বাসায় ঢুকে ভাংচুর চালায়। তখন তারা ৫০ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালংকার লুটে নিয়ে যায়। বাদী অভিযোগ করেন, তাদের কন্যাকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনায় ১০–১২ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা হয়।
এরপরও হামলার ধারাবাহিকতায় ১ নভেম্বর আব্দুল মজিদকে হোটেল থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সিএনজিতে করে তাকে শনিরআখড়ার একটি বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর করা হয় এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হয়। ডিপজল রড এবং পিস্তল দিয়ে তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন। মারধরের সময় তিনি মারাত্মক আহত হন। পাশাপাশিই তাদের কাছে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা এবং বিকাশে সাড়ে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়। দুই দিনের মধ্যে মামলা প্রত্যাহারের শর্তে আহত অবস্থায় আব্দুল মজিদকে ফেলে চলে যায় তারা।
পরবর্তীতে রাশিদা আক্তার তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। বাদী অভিযোগ করেছেন, ৩ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়েরের জন্য গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেননি। এরপরও পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় নতুন করে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পিবিআই তদন্ত করছে এবং প্রাথমিকভাবে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। মামলা শেষ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘটনার গুরুত্বের কারণে দেশের নানা প্রান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ডিপজলের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো দেশের জনমনে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ এবং ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষত, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনীকে নিয়ে হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও আলোচনা হচ্ছে। ঘটনা তুলে ধরেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্বলতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের গুরুত্ব।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের মামলা দ্রুত এবং সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া প্রমাণ সংগ্রহ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন। পিবিআইয়ের তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হলে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়তা হবে।
ডিপজলের কর্মকাণ্ড এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলা দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক সংবাদ সৃষ্টি করেছে। জনমতের প্রভাব ও আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ করা যায়।