প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম ব্রিজ মোড় এলাকায় এক নারী যাত্রাশিল্পীকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে এবং বৃহস্পতিবার রাতে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম শাহ আলম (৪০), চরকালীবাড়ি এলাকার মো. রাশেদের ছেলে। তিনি মামলার ৩ নম্বর আসামি। পুলিশ শাহ আলমকে জুবিলী ঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভুক্তভোগী নারী যাত্রা নৃত্যশিল্পীর নাম মোছা. রুপা। তিনি নগরের বড় কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রুপা ও তার পরিবারের সঙ্গে প্রতিপক্ষের মধ্যে পূর্ব থেকেই জমি সংক্রান্ত বিবাদ চলছিল। বড় কালীবাড়ি লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত একটি বস্তিতে প্রায় ১৫ বছর আগে রুপা সমিতির কাছ থেকে জমি কিনেছিলেন। গত বছর সেখানে আধা পাকা ঘর তৈরি করতে গেলে সমবায় সমিতির সদস্য শাহ আলম চাঁদা দাবি করেন। ১ লাখ টাকা দেওয়ার পরও আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা না দেওয়ায় গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর রুপার বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
এই ঘটনার পর রুপা আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ৬ এপ্রিল রুপার অষ্টম শ্রেণির ছেলে রনি সুলতানকে অপহরণ করা হয়। রুপা ৯ এপ্রিল মামলাটি থানায় দায়ের করলে শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে রুপার ভাঙচুর মামলার তদন্তের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে প্রতিপক্ষের সদস্যরা রুপাকে ধরার সুযোগ পায়। তারা তাকে রাস্তায় ধরে নিয়ে গিয়ে বেঁধে মারধর করে, চুল কেটে মুখে কালি মাখে এবং মাদক ও টাকা রাখার দৃশ্য ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। পরে রুপার স্বামী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী রুপা সাংবাদিকদের জানান, “পুলিশ চলে যাওয়ার পরই আমাকে রাস্তায় ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর ও হেনস্তা করা হয়। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই মাসুদ জামেলী জানান, রুপার উপর এমন নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা দুই পরিবারের মধ্যে চলা বিবাদ ও আগের মামলা সংক্রান্ত। পুলিশ ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং মামলার তদন্ত চলছে। ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, “মামলার তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এই ঘটনায় স্থানীয় সমাজের মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য authorities-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ন্যায়বিচারের আশ্বাস এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
মোটকথা, ময়মনসিংহে নারী যাত্রাশিল্পীর ওপর নৃশংস নির্যাতন কেবল ব্যক্তিগত হিংসা নয়, এটি সমাজে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশের সক্রিয়তার গুরুত্ব ও দ্রুত কার্যকর ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। স্থানীয় প্রশাসন, মানবাধিকার সংস্থা এবং সমাজের সক্রিয় অংশের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন।