ছাত্রদের যৌন হয়রানির অভিযোগে ঢাবি অধ্যাপক আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩২ বার
ছাত্রদের যৌন হয়রানির অভিযোগে ঢাবি অধ্যাপক আটক

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমকে ছাত্রদের যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার না হলেও ‘আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের’ জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর শেওরাপাড়ায় তাঁর নিজ বাসায় অভিযান চালায় মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। এরপর তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই শিক্ষক সমাজ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ নিশ্চিত করেছেন যে, পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে। তিনি বলেন, অধ্যাপক এরশাদ হালিম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান না করায় তাকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন হয়নি। তবে প্রশাসন ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগে রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ড. এরশাদ হালিম দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের একাধিক ছাত্রকে ব্যক্তিগতভাবে ডাকতেন এবং একান্তে সাক্ষাৎ করার চাপ দিতেন। কয়েকজন ছাত্র অভিযোগ করেছেন যে, তিনি তাঁদের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করতেন, অনুপযুক্ত আচরণ করতেন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন। এই অভিযোগগুলো প্রথমে সীমিত পরিসরে জানানো হলেও পরে বড় আকারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং তাঁদের মানসিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে।

অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর এবং বাইরে উত্তেজনা তৈরি হয়। অনেকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত দাবি করেন। রসায়ন বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরেই অসুবিধায় ছিলেন, কিন্তু প্রকাশ্যে বলতে সাহস পাননি। অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষার্থীরা সাহস পেয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেল ঘটনাটি নিয়ে পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। এই সেল শিক্ষার্থীদের বক্তব্য রেকর্ড করছে এবং সব অভিযোগ একত্রিত করে বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা বোর্ডে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে যে তাঁরা তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য প্রাথমিক তদন্ত চলছে। তারা বলেছেন, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত দ্রুত ও সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে। ছাত্রদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি পুনরুদ্ধারে পুলিশ ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলেও জানান এক কর্মকর্তা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, এমন অভিযোগ অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এটি শিক্ষকতার পবিত্র সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাঁরা মনে করেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা উচিত। অন্যদিকে, নানা শিক্ষার্থী সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এই ঘটনা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকেই নয়, সামগ্রিকভাবে সমাজে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের কাঠামো কতটা শক্তিশালী—সেটিও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, শিক্ষক সমাজ, এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এখন তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ বলছে, কোন ধরনের চাপ বা প্রভাবমুক্ত থেকে ন্যায়সঙ্গত তদন্ত হবে। শিক্ষার্থীদের আশা—তাদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হবে এবং তারা আবারও একটি নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।

সংক্ষেপে, ড. এরশাদ হালিমকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ে বড় ধরনের আলোড়ন তুলেছে। যৌন হয়রানির মতো সংবেদনশীল অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে। এখন নজর তদন্তের দিকে—এবং শিক্ষার্থীরা অপেক্ষা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্তের জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত