প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বক্তারপুর এলাকায় পার্ক করা ইতিহাস পরিবহনের একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে ঘটে এই ঘটনা।幸 আতঙ্কিত হলেও কেউ হতাহত হননি। তবে বাসের আসনগুলো সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালিয়াকৈর উপজেলার বক্তারপুর এলাকায় সমাহার কারখানার পাশে বাসগুলো প্রতিদিন পার্কিং করা হয়। এখান থেকেই এগুলো চন্দ্রা হয়ে মিরপুর রুটে চলাচল করে। গতকাল দিনে চলাচল শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে বাসটি এখানে পার্ক করা হয়। গভীর রাতে দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন যুবক এসে বাসের আসনে আগুন ধরিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। আশেপাশের লোকজন আগুন দেখে দৌড়ে এসে নেভানোর চেষ্টা করেন। ফায়ার সার্ভিসের উপস্থিতি হওয়ার আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বাসে কোনো যাত্রী বা শ্রমিক না থাকায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
ইতিহাস পরিবহনের একজন কর্মী মনির হোসেন বলেন, “আমি রাতে অন্য একটি বাসে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ দুটি মোটরসাইকেল এসে বাসস্ট্যান্ডের পাশে দাঁড়ায়। চারজন যুবক বাসে উঠে আগুন ধরিয়ে দ্রুত চলে যায়। আমরা আতঙ্কিত হলেও অবিলম্বে চেষ্টা করি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার।”
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ইফতেখার রায়হান চৌধুরী বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছেন। আগুনে বাসের আসনগুলো পুড়ে গেছে, তবে কোনো প্রাণহানি হয়নি।”
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার তদন্ত চলছে। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদেরকে আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, “প্রত্যক্ষদর্শীদের সাহায্যে দ্রুত তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত দায়িত্বে আনা যায়।”
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বাসে অগ্নিসংযোগের ফলে পারিবারিক ও জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। বিশেষ করে কালিয়াকৈরের বক্তারপুর ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াতকারী মানুষ এবং পরিবহন শ্রমিকরা আরও সতর্ক থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
এই ধরনের ঘটনা শুধু যানবাহনের ক্ষতি ঘটায় না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। নিরাপত্তা বাহিনী স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় প্রশাসন প্রতিটি বাস স্ট্যান্ডে পর্যবেক্ষণ বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে।
যদিও কেউ হতাহত হয়নি, তবে বাসের সম্পূর্ণ আসন পুড়ে যাওয়ায় কোম্পানির জন্য ক্ষতির পরিমাণ বড়। পরিবহন কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা দ্রুত নতুন আসন বসিয়ে বাসটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করবে। তবে এই ঘটনার প্রভাব যাত্রীসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক যাত্রী উদ্বিগ্ন হয়ে ভোরের দিকে পার্কিং করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জোর দিয়ে বলেছে, জনগণকে নিশ্চিত করতে হবে যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কালিয়াকৈর থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ নথিভুক্তকরণ এবং সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার কাজ শুরু করেছে।
এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষভাবে বাস স্ট্যান্ডের চারপাশে পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি, নিরাপত্তা গার্ড মোতায়েন এবং স্থানীয় কমিউনিটির সহায়তা জরুরি বলে প্রশাসন মনে করছে। এছাড়া বাস কোম্পানিগুলোও তাদের কর্মী ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, রাতের অন্ধকারে কোনো যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করলে তা সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই বাস পার্কিং ও যাত্রী নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
এ ঘটনায় কারও প্রাণহানি না হওয়া একদিকে স্বস্তির হলেও, বাসে সম্পূর্ণ আগুন লাগার কারণে আর্থিক ক্ষতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। প্রশাসন আশা করছে, দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং দায়িত্বশীলদের দমন করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে।
এই ঘটনার মাধ্যমে সুনিশ্চিত হচ্ছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয়তা মিলিত হলে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ত্বরিতভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের যৌথ প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।