রাজশাহীতে নারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৮ বার
রাজশাহীতে নারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

রাজশাহীর পবা উপজেলায় ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট চাইতে গিয়ে হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠা জামায়াতের এক কর্মীর বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে ‘সচেতন নারী সমাজের’ ব্যানারে এই কর্মসূচি আয়োজন করে রাজশাহী নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম।

ঘটনার সূত্রপাত ১১ নভেম্বর, পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের আশরাফের মোড় এলাকায়। অভিযোগ অনুসারে, বিএনপির দুই নারী কর্মী নিলুফার ইয়াসমিন ও তাঁর বোন নূরভানু মারধর ও মানসিক হেনস্তার শিকার হন। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন নুরুল ইসলাম, যিনি ওই এলাকার বাসিন্দা ও জামায়াতের কর্মী। ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল হক (মিলন)। তিনি বলেন, “নির্বাচনের ট্রেন চালু হয়েছে। তবে এই সময়ে নারীর ওপর হামলা ও হেনস্থা নির্বাচনী পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করেছে। নারীদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করতে হবে। যারা নারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

রাজশাহী মহানগরের মহিলা দলের সভাপতি শামসাদ মিতালী মানববন্ধনে বলেন, “দেশের নারী ভোটারদের সংখ্যা ৫২ শতাংশ। কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকলে নারীদের ওপর এমন নির্যাতন ঘটে। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে নারীরা দেশজুড়ে কঠোর আন্দোলনে নামবেন।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল আলিম এবং ইউট্যাব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি অধ্যাপক মামুনুর রশীদও মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। মামুনুর রশীদ বলেন, “যখন নারীরা শিক্ষা, গবেষণা ও অর্থনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তাঁদের ওপর নির্যাতন চলতে পারে না। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা হাবিবা বলেন, “আমরা শুধু একজন কর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদ করছি না, বরং সেই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছি, যা পুরুষকে রাজনৈতিক পরিচয়ে নারীর ওপর হাত তোলার সাহস দেয়। আমরা আইনের মাধ্যমে দায়িত্বশীলদের শাস্তি নিশ্চিত করব।”

অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতের কর্মী নুরুল ইসলাম দাবি করেছেন, “আমাকে উদ্দেশ্য করে ‘আমার বউ নৌকাত ভোট দিছি’ বলে কটূক্তি করা হয়। ক্ষুব্ধ হয়ে আমি শুধু ধাক্কা দিয়েছি, এর বেশি কিছু হয়নি।”

কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মতিন জানান, ঘটনার বিষয়ে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। জিডিটি আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভুক্তভোগীদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা হলে আগামী নির্বাচনে নারীরা আরও নির্ভয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

রাজশাহী নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নারী ভোটারের প্রতি সহিংসতা ও হেনস্থার যে কোনো ঘটনায় চোখ বন্ধ রাখা হবে না। তারা নারীর অধিকার রক্ষায় জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

মানববন্ধনটি রাজনৈতিক সহিংসতা ও নারীর নিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে এনেছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও জনসাধারণকে একসাথে কাজ করতে হবে, যাতে ভোটের অধিকার রক্ষায় কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়।

এই ঘটনার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে নারীর অংশগ্রহণের গুরুত্ব আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে নির্বাচনী পরিবেশ হিংসা ও হুমকি মুক্ত থাকে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত