নভেম্বরের ১৬ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৫ শতাংশের বেশি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৭ বার
নভেম্বরের ১৬ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৫ শতাংশের বেশি

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নভেম্বরের প্রথম ১৬ দিনে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩৫.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬৯৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে ১১ হাজার ৮৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের ১০ হাজার ১৯৩ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রেখেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সংবাদ মাধ্যমে জানান, বিশেষ করে ৫ নভেম্বর একদিনে প্রবাসীরা দেশে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৭৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪.৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স বৃদ্ধি কেবল পরিবারের আয় বৃদ্ধির মাধ্যম নয়, এটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ, ভোক্তা ব্যয় এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ দেশের ব্যাংকিং সেক্টর ও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন এবং সরকারী কর্মকাণ্ডের জন্য পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা নিশ্চিত হয়।

অর্থনীতিবিদরা আরও উল্লেখ করছেন যে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা শুধুমাত্র পরিবারের জীবনধারণে সহায়তা করছেন না, তারা দেশের অর্থনীতিকে সরাসরি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে করোনার পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চাপের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল এবং বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি সরকারের বাজেট পরিকল্পনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার নীতিমালার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশে বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ করতে সক্ষম। এছাড়া, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিরা তাদের আয় থেকে পরিবারের জন্য টাকা পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতি চালু রাখছেন। ব্যাংক সূত্রে জানানো হয়েছে, সহজ, স্বচ্ছ এবং দ্রুত রেমিট্যান্স প্রেরণের সুবিধা দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করছে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধুমাত্র পরিবারের জীবনধারণ ও দৈনন্দিন খরচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও অপরিহার্য। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি ও ছোট ব্যবসায়িক উদ্যোক্তাদের জন্য এই অর্থ সরাসরি সহায়ক। ফলে দেশজুড়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সের মোট পরিমাণ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে সাহায্য করবে, যা বিনিয়োগ, আমদানি ও রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে অর্থায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি দেশের সামাজিক কাঠামোও শক্তিশালী করছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ অনেক পরিবারকে শিক্ষার, স্বাস্থ্যসেবার ও আবাসন খাতে উন্নত মানের সুবিধা গ্রহণে সক্ষম করছে। এই অর্থ সামাজিক নিরাপত্তা এবং দারিদ্র্য হ্রাসেও ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, প্রবাসী রেমিট্যান্সের এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি এবং সামাজিক অবকাঠামোর জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। চলতি বছরের শেষের দিকে এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেলে, তা দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, নভেম্বরের প্রথম ১৬ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহের ৩৫.২ শতাংশ বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক প্রগতির একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন। প্রবাসীদের এই অবদান দেশের অর্থনীতি, সামাজিক উন্নয়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত