প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র কুয়েত তাদের ভিসা ব্যবস্থায় আনলো এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। নতুনভাবে চালু করা হয়েছে ইলেকট্রনিক ভিসা (ই-ভিসা) সেবা, যা কুয়েত প্রবেশের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও আধুনিক করে তুলবে। শুধু পর্যটক নয়, ব্যবসায়ী, প্রবাসী, পরিবার ভ্রমণকারী এবং সরকারি প্রতিনিধিদের জন্যও এই সেবা উন্মুক্ত করা হয়েছে।
এই ই-ভিসা ব্যবস্থা কেবল কুয়েত সরকারের ডিজিটাল রূপান্তরের একটি পদক্ষেপ নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত এবং বসবাসরত লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি নাগরিক, বিশেষ করে প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য এটি এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, পর্যটন, পরিবার, বাণিজ্যিক এবং সরকারি প্রতিনিধি—এই চারটি ক্যাটাগরিতে নতুন ই-ভিসা প্রদান করা হবে। পর্যটন ভিসার মেয়াদ হবে ৯০ দিন, এবং পারিবারিক ও বাণিজ্যিক ভিসার মেয়াদ থাকবে ৩০ দিন। আবেদন প্রক্রিয়া হবে পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক, ফলে আবেদনকারীদের কাগজপত্র দাখিল বা অফিসে যাওয়ার ঝামেলায় পড়তে হবে না।
বিশ্বের সঙ্গে নিজেদের ডিজিটাল সংযুক্তি আরও জোরালো করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে কুয়েত সরকার। দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে অভ্যন্তরীণ সেবাগুলোও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
এদিকে, এই পদক্ষেপকে ঘিরে উৎসাহ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও সংগঠকেরা। বাহরাইন বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের সভাপতি আইনুল হক সরকার বলেন, “কুয়েত এখন ই-ভিসা চালু করেছে। আমরা চাই ছয়টি উপসাগরীয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে। এর মাধ্যমে শুধু পণ্য নয়, বিনিয়োগ, মানবসম্পদ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন দিক উন্মুক্ত হবে।”
কুয়েত বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি লুৎফর রহমান মুখাই আলী বলেন, “আমরা মধ্যপ্রাচ্যে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশি বাণিজ্যিক সংগঠন তৈরি করতে চাই, যা কেবল পণ্য রপ্তানি নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করবে। কুয়েতের এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।”
এই নতুন ই-ভিসা ব্যবস্থা কুয়েতকে জিসিসি (Gulf Cooperation Council) গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা পদ্ধতির অংশ হওয়ার পথেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যদি এটি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে ছয়টি উপসাগরীয় দেশ—বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি অভিন্ন পর্যটন ভিসা ব্যবস্থার আওতায় যাতায়াত করা যাবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ শুধু বিদেশিদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করছে না, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কূটনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে আরও দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে। পাশাপাশি, এই সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য ও সংস্কৃতির পরিচিতি মধ্যপ্রাচ্যে আরও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হতে পারে।
নতুন এই ই-ভিসা পদ্ধতি নিঃসন্দেহে কুয়েতকে আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি মডেল হিসেবে তুলে ধরছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশের পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী সুযোগ, যা আগামী দিনে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।