শেখ হাসিনা ও কামালের রায়ের কপি সরকারি দফতরে পাঠানো যাচ্ছে না

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪২ বার
শেখ হাসিনা ও কামালের রায়ের কপি সরকারি দফতরে পাঠানো যাচ্ছে না

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আজ সরকারি দফতরগুলোতে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি পাঠানো হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যানের অসুস্থতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র প্রেরণ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়েছে, জানিয়েছে ট্রাইব্যুনাল প্রশাসন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হওয়ার কথা ছিল। রায়ের কপি প্রাপ্ত হলে উভয় মন্ত্রণালয় ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং ভারতের কাছে আসামিদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নিত। এ প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনাল প্রশাসন জানিয়েছে, চেয়ারম্যানের অসুস্থতার কারণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় কারাগারে এই রায়ের কপি পাঠানো হওয়ার কথা ছিল পুলিশের মহাপরিদর্শক ও মামলার রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের কাছে। তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও চেয়ারম্যানের স্বাস্থ্যগত কারণে এটি সম্ভব হয়নি।

এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকেও মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করে।

রায়ে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একমাত্র আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আর রাজসাক্ষী হওয়ার কারণে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ রায়ের আগের প্রক্রিয়ায়, গত ১ জুন ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। প্রসিকিউশন মোট পাঁচটি অভিযোগ আনে, যা গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ হিসেবে গঠিত হয়।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগগুলো হলো: ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার জন্য হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর অভিযোগ। এই অভিযোগগুলোতে তিন আসামি জড়িত থাকার কথা বলা হয়।

শুধুমাত্র সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গ্রেফতারকৃত আসামি ছিলেন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের দিনে তিনি গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদনও করেন। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল পলাতক রয়েছেন।

বিচারপতি ও ট্রাইব্যুনাল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রায়ের কপি যথাযথ সময়ে পাঠানো না গেলে দেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলো কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না। ফলে রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়াও স্থগিত রয়েছে। সরকারিভাবে রায় প্রেরণের জন্য সকল প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও চেয়ারম্যানের অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই মামলার রায় ও তার কার্যকরীকরণ দেশের বিচার ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও পলাতক আসামিদের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত জটিলতা বিষয়টিকে আরও জটিল করেছে। রায়ের কপি হাতে পেলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা সম্ভব হবে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করার পথ খুলে দেবে।

ট্রাইব্যুনাল প্রশাসন জানিয়েছেন, যত তাড়াতাড়ি চেয়ারম্যানের অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠা হবে, রায়ের কপি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে তার আগ পর্যন্ত কাগজপত্র প্রেরণ এবং কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ট্রাইব্যুনাল প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

এই মামলার রায় দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আসামিদের মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হিসেবে সাবেক আইজিপির সাজা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ মামলায় ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটি বার্তা দেয়। তবে কার্যকরী প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়ন পলাতক আসামিদের অবস্থান, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও ট্রাইব্যুনাল প্রশাসনের স্বাস্থ্যগত সীমাবদ্ধতার কারণে স্থগিত থাকায় তা এখনও সরকারের প্রশাসনিক ও আইনগত প্রস্তুতির উপর নির্ভর করছে।

এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সরকারিভাবে প্রস্তুত থাকলেও রায়ের কপি না আসায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আইন ও প্রশাসনের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে, যা সরকারের কাছে প্রাথমিকভাবে সমাধান ও উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত