প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের ভাই শামীম শেখকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে গ্রেফতার করা শামীমকে পিরোজপুরে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শামীম শেখ বর্তমানে বেসরকারি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের গুলশান শাখায় কর্মরত ছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শামীম শেখের বিরুদ্ধে পিরোজপুর সদর ও নাজিরপুর থানায় মোট তিনটি মামলা দায়ের রয়েছে। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ আবু নাসের জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সদর থানায় একটি মামলা এবং নাজিরপুর থানায় দুটি মামলা তার বিরুদ্ধে চলমান।
গ্রেফতারের সূত্রপাত ২০২৪ সালের ৩০ আগস্টের ঘটনা থেকে। পিরোজপুর সদর উপজেলার শিকদার মল্লিক গ্রামের ব্যবসায়ী শরিফুজ্জামান সিকদার শামীমের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ দায়ের করেন। মামলায় শ ম রেজাউল করিম ও তার দুই ভাইকেও আসামি করা হয়েছিল। পরে ৫ আগস্টের পর শামীম তার ভাইদের সঙ্গে অন্যান্য মামলায় আসামি হিসেবে যুক্ত হন।
শামীম শেখ পরিবারের মধ্যে চতুর্থ, যেখানে তার ভাই মন্ত্রী পদে ছিলেন। যদিও পরিবারের বাকী ভাইরা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও শামীম চাকরিজীবী হিসেবে ঢাকায় বসবাস করতেন। তার গ্রেফতারের খবর পিরোজপুরের স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিস্তৃত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, জেলার গোয়েন্দা পুলিশ এই গ্রেফতারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তদারকি চালাচ্ছিল।
পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ আবু নাসের বলেন, “শামীম শেখকে ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পিরোজপুর জেলার দুটি থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। সদর থানার একটি এবং নাজিরপুর থানার দুটি মামলা চলমান। এই গ্রেফতারের মাধ্যমে মামলার তদন্ত কার্যক্রমে নতুন গতিশীলতা আসবে।”
স্থানীয়রা জানান, শামীম শেখ দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও তার পরিবারের কারণে মামলার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি ব্যাংককর্মী হওয়ায় সাধারণ মানুষ মনে করেছিল যে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে থাকবেন, কিন্তু আদালত ও প্রশাসনের তদন্তে তাকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শামীমসহ তার ভাইদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও স্থানীয় সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষতি করার অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ চালিয়েছে।
গ্রেফতারের পর পিরোজপুরের স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলেন, “শামীম শেখকে দ্রুত পিরোজপুর আনা হয়েছে যাতে তিনি সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা করতে পারেন। এটি পুরো অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই গ্রেফতারের মাধ্যমে পিরোজপুরে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে। তারা আরও বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব থাকলেও বিচারিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত ও গ্রেফতারের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার শামীম শেখকে আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ায় সামলানো হবে। পিরোজপুরের প্রশাসনও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।
শামীম শেখের গ্রেফতারের খবর এলাকাবাসীর মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন অনেকেই, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে এই গ্রেফতারের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, পিরোজপুর জেলার গোয়েন্দা পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে শামীম শেখের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিল। ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে তার গ্রেফতারের মাধ্যমে পুলিশের কার্যক্রমে নতুন দিকনির্দেশনা এসেছে। গ্রেফতারের পর পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে এবং মামলার দ্রুত সমাধান হবে।
পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ আবু নাসের আরও বলেন, “গ্রেফতার শামীম শেখকে স্থানীয় থানার আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমাদের লক্ষ্য, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং এলাকার সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
এই গ্রেফতারের পর পিরোজপুরে আদালতের কার্যক্রম এবং পুলিশের নজরদারি আরও সক্রিয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, শামীম শেখের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সাবেক মন্ত্রী রেজাউল করিমের পরিবারের সদস্য হিসেবে শামীম শেখের গ্রেফতার স্থানীয় রাজনীতিতে এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সকল কার্যক্রম আইন অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে এবং কোনো ধরনের অযথা প্রভাব বা রাজনৈতিক প্রভাব এ ক্ষেত্রে থাকবে না।
এই গ্রেফতারের ফলে পিরোজপুরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, মামলার দ্রুত সমাধান এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসন আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।










