প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার মূল দায়িত্ব শুধু নির্বাচন কমিশনের নয়, বরং প্রতিটি রাজনৈতিক দলও এই প্রক্রিয়ায় জাতির কাছে দায়বদ্ধ। এই মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জামায়াত ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান।
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের প্রত্যাশা, সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণে তাদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকার চেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর। প্রত্যেক দলের দায়িত্ব হলো তাদের কর্মীদের মাধ্যমে ভোটারদের সচেতন করা এবং ভোট কেন্দ্রে আসার জন্য উৎসাহিত করা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই বার্তা এসেছে এমন সময়, যখন দেশে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং জনগণের আস্থা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা অপরিহার্য। “কমিশন সঠিক নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ দেবে, তবে বাস্তবতায় নির্বাচনী পরিবেশকে সুষ্ঠু রাখতে প্রতিটি দলের সহযোগিতা আবশ্যক,” যোগ করেন তিনি।
এর আগে, নির্বাচন কমিশন গত বৃহস্পতিবার, রোববার ও সোমবার তিনটি সেশনে মোট ৩৬টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনি সংলাপ করেছে। এই সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের কাছে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গণমান্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে নতুন দুটি দলসহ মোট ৫৫টি নিবন্ধিত দল রয়েছে। এ ছাড়া, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত ও তিনটি দলের নিবন্ধন বাতিল রয়েছে।
সিইসির এই বৈঠক শুধু একটি প্রথাগত আলোচনার ফর্মালিটি নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক দলের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল আচরণ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব নয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া দলের নেতারা নির্বাচনের সময় জনমত সঠিকভাবে প্রতিফলিত করার জন্য তাদের দায়িত্ববোধ জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি মানা মানে কেবল নিয়ম মেনে চলা নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করা, ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করা এবং গণতন্ত্রকে মজবুত করার একটি অংশ। সিইসি বলেন, ভোটারদের প্রতি দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা এবং সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিটি রাজনৈতিক দল দেশের গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী নির্বাচনে প্রতিটি দল তাদের কর্মীদের মাধ্যমে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
এই বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং অংশগ্রহণমূলক করতে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। নির্বাচনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন কেবল কমিশনের তত্ত্বাবধানে নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়বোধের ওপর নির্ভরশীল। সিইসির এই বার্তা দেশের ভোটার এবং রাজনৈতিক দল উভয়ের জন্যই একটি সতর্কসংকেত হিসেবে কাজ করবে, যাতে সবাই সক্রিয়ভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিইসির এই উদ্যোগ শুধুমাত্র দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাত্রা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল আচরণ ছাড়া দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাস্তবে সঠিকভাবে কার্যকর করা সম্ভব নয়।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে সিইসি ভোটারদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, “দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে এবং রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দায়িত্ব পালন করলে, আমরা এক truly representative সরকার গঠন করতে পারব।”
এই আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কেবল তত্ত্বাবধানে থাকলেই যথেষ্ট নয়; দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেও তাদের দায়িত্ববোধের সঙ্গে নির্বাচনী পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে। এটি দেশের গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য, কারণ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশকে স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধশালী করতে সক্ষম।