নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে তরুণদের নেতৃত্ব জরুরি: উপদেষ্টা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮৬ বার
নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে তরুণদের নেতৃত্ব জরুরি: উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ সম্প্রতি তরুণদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন, নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে। তিনি বলেন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় যে তরুণ ছেলে-মেয়েদের আমরা দেখি, ২৪-এর যুদ্ধে আবার সেই তরুণ প্রজন্মকে রাস্তায় দেখেছি। তিনি যোগ করেন, “তোমাদের মধ্যে যে স্পৃহা, উদ্যম এবং শক্তি আমি দেখেছি, সেই সাহসিকতা নতুন দেশের গড়নেও কাজে লাগবে।”

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমির অডিটোরিয়ামে ইয়ুথ ফোরাম অব বাংলাদেশের আয়োজিত ‘তারুণ্যের চোখে আগামীর বাংলাদেশ’ শিরোনামের আন্তঃকলেজ বিতর্ক উৎসবের ফাইনাল পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কেন্দ্রীয় মজলিসে সূরা সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি মো. কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মীর আহমদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান), নিরাপদ অ্যালায়েন্সের ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাহমিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফাতিন সাদাব লিয়ান, ইয়ুথ ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি ইউসুফ মাহমুদ তৌসিফ, সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছিন মির্জা সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, ন্যায্যতা, সাম্য এবং সুশাসনের স্বপ্ন নিয়ে দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সেই শিকড়গুলো ঠিকভাবে গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, “আমরা ১৬ বছর পথ হারিয়েছি, চলতে চলতে ভ্রান্ত পথে গিয়েছি। দেশে অন্যায় ও অত্যাচারের পাহাড় গড়ে উঠেছে। স্বৈরতন্ত্রের চরম বিকাশও আমরা দেখেছি। সেই পরিস্থিতিতেই ২৪-এর জুলাই যুদ্ধে নতুন প্রজন্ম রাস্তায় নামল।”

তিনি তরুণদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গঠনের সুযোগটি আমরা দ্বিতীয়বার পেয়েছি। তোমাদের তৈরি করা ঐক্য ভেঙে যেতে দেওয়া যাবে না। মতাদর্শের ভিন্নতায় দেশকে ভাগ করা যাবে না। ভালোবেসে, একত্রে দাঁড়াতে হবে।” উপদেষ্টা আরও বলেন, তার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ২৪-এর জুলাই যুদ্ধে প্রায় ৭০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ করেছিলেন। তারা ছেলেদের সঙ্গে সমানভাবে আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও কষ্ট স্বীকার করেছিলেন।

উপদেষ্টা তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নতুন বাংলাদেশে তারুণ্যের চোখে যে প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে, তা দেশের শিশু ও কন্যাদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তিনি প্রত্যেককে অনুরোধ করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে। যেখানে অন্যায়ের ঘটনা ঘটবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। “আমি চাই, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠুক যেখানে সারা পৃথিবী বলবে, বাংলাদেশ হচ্ছে নারী ও শিশুর নিরাপদ দেশ।”

তিনি দেশের তরুণদের দেশ গড়ার শপথ বাক্য পাঠ করান এবং বলেন, “তোমাদের সাহস, উদ্যম ও নেতৃত্ব দিয়ে আমরা আমাদের দেশকে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করতে পারব। নতুন প্রজন্মই আমাদের সুরক্ষার, ন্যায়ের এবং মানবিকতার নিশ্চয়তা।” এই আহ্বান কেবল একটি বক্তব্যের অংশ নয়, বরং তরুণ সমাজকে দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক ন্যায়বোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ আরও যোগ করেন, দেশের ন্যায়বিচার ও সামাজিক নিরাপত্তা কেবল প্রশাসনের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং তরুণ সমাজকে এগিয়ে এসে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে হবে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহমর্মিতা, তাদের অধিকার রক্ষা এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা তরুণদের হাতে রয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত তরুণরা উপদেষ্টার বক্তব্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন যে, তারা নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন। এটি প্রমাণ করে যে, নতুন প্রজন্ম দেশের সামাজিক ও নৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য প্রস্তুত এবং তাদের মধ্যে এমন উদ্যম ও সাহস রয়েছে যা দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ এর বক্তব্য শুধু তরুণদের অনুপ্রাণিত করাই নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তা প্রদান করে যে, দেশের যুব সমাজ সক্রিয়ভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, মানবাধিকার রক্ষা করতে এবং সমাজে ন্যায় ও সমতার পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে। এটি দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশনা এবং প্রেরণার উৎস।

শেষমেষ, সমাজকল্যাণ উপদেষ্টার আহ্বান নতুন প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শুধু নিজের উন্নতি নয়, সমাজের Vulnerable জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, ন্যায় ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন, যেখানে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে, তার জন্য তরুণরা এগিয়ে আসতেই হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত