সিলেটের পশ্চিম পীরমহল্লায় “হাউন আংকেল” এর সকল কুকর্মের ডায়েরি – ১ম পর্ব

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৮২৩ বার

বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন |

হাফেজ আব্দুল হাই হারুন, আগামী ফেব্রুয়ারী’ ২০২৫ এর নির্বাচনে সিলেট ১ আসনের জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা’র প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে প্রধান কনভেনরের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সিলেটের বর্তমান একজন রুকন ও নেতা, যিনি ইদানিং অনেকের কাছে এবং বিশেষ করে পীর মহল্লাহ স্থানীয় জনগণের কাছে  “হাউন আঙ্কেল” হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছেন। মূলতঃ জামায়াতে ইসলামীতে যাহারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তাহারা রুকনদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত হোন, একজন রুকন কে শপথ  নিতে হয়, সেই শপথ ভঙ্গের অনেক কারণও রয়েছে যা একজন রুকন কে ভালো করে শপথ নেয়ার আগেই অবহিত করা হয় এবং শপথ ভঙ্গ করলে তাহার রুকোনিয়াত পদ স্থগিত বা বাতিল ও হয়। কিন্তু এই সকল নিয়ম ও নীতি ভঙ্গ এবং রুকোনিয়াত বাতিল নিমিত্তে হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) এর ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর  সিদ্ধান্ত ও অবস্থান সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম যা রীতিমতো চিন্তার উদ্রেগ করে। তিনি এতোই বেপরোয়া যে তিনি সাংগঠনিক কোনো নিয়মনীতির ই তোয়াক্কা করেন না। সংগঠন হিসাবে জামায়াতে ইসলামী এইসব নিয়ম নীতি’র ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর হলেও হাফেজ আব্দুল হাই হারুনের ব্যাপারে সংগঠনকে কোনো পদক্ষেপ নিতে না দেখে সংগঠনের সকল জনশক্তি নিতান্তই হতবাক হয়েছেন বার বার। সংগঠনের জনশক্তির ভিতরে হাউন আঙ্কেল এর অনেক কর্মকান্ড সবাইকে বিগত দিন গুলোতে এবং বর্তমানেও বিভিন্নভাবে প্রশ্নের মুখোমুখি করলেও এবং তা জনশক্তির মধ্যে তার যথেষ্ট চর্চা হলেও তাহা বাহিরের মানুষ তেমন কিছু জানতে সক্ষম হয়নি, বিষয়গুলো সেখানেই সীমাবদ্ধ থেকে গিয়েছে। কারণ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এবং দায়িত্বশীলরা তাদের দলকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তাদের নিজস্ব পছন্দের দলকে যতটুকু ভালোবাসে তাদের চেয়ে অনেক বেশী পরিমানে ভালোবাসে  এবং অনাকাঙ্খিত অনেক কিছুই যা তাহারা বাহিরে প্রকাশ করতে দেয়না, যার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের বাহিরে সমাজের সাধারণ মানুষদের কাছে তা অজানাই থেকে যায়।                                                                                             

একটি বিষয় অনেকাংশে পরীক্ষিত যে কোনো খারাপ চরিত্রের মানুষ ভালো মানুষের সংস্পর্শে আসলে অনেক সময় খারাপ মানুষও তার চরিত্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের  লালিত যত খারাপ দিক রয়েছে তার পরিবর্তন করে নিজে ভালো হয় বা হওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) এর ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম। এ যেন “কয়লা ধুইলেও ময়লা যায়না” প্রবাদের মতো সত্য। উনি নিজেকে একজন কোরানের হাফিজ দাবি করলেও উনার চরিত্রের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এমসি কলেজের ইসলামী ছাত্র শিবিরের নব্বই দশকের একজন সাবেক ছাত্রনেতা আমাদেরকে জানান যে, আমি নিজ চোখে দেখেছি উনি ১৯৯২ সালে জামায়াতে ইসলামীর একজন শপথের রুকন থাকা সত্ত্বেও পীর মহল্লার বাজারের রাস্তার পাশে রিক্সাওয়ালাদের সাথে বসে হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) ১০/২৫ নিয়মিত খেলতেন। তখনকার দিনে আজকের মতো ইন্টারনেট এর প্রসার ছিল না, পীর মহল্লার বাজারে রেস্টুরেন্টে ডিশের চ্যানেলে হিন্দি ছবির গান চলতো, আর বাজারের রাস্তার পাশে ক্লান্ত শ্রান্ত রিকশা ড্রাইভার সমস্ত দিনের অর্জনের টাকা দিয়ে ১০/২৫ জুয়া খেলতে বসতো, আর হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) তাদের সাথে বসে এইভাবে জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াতী কাজ করতেন। পীরমহল্লার স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মী আমাদেরকে জানান হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) যদিও সত্তরের কাছাকাছি বয়স কিন্তু এখনো প্রায় রাতে তাস দিয়ে জুয়া খেলেন। সময়ের পরিবর্তনে প্রযুক্তিরও পরিবর্তন হয়েছে, এখন আর আগের মতো রাস্তার পাশে বসে ১০/২৫ খেলার কোনো অবকাশ নেই, তাই হাউন আঙ্কেল বেছে নিয়েছিলেন বিকল্প পথ, এখন খেলেন চার দেয়ালের ভিতরে তাস দিয়ে জুয়া। পীর মহল্লায় তার সাথে তাস দিয়ে জুয়া খেলার একটি গ্রুপ রয়েছে এবং তাহারা দীর্ঘদিন থেকে বন্ধুত্বের বলয়ে আবদ্ধ, তারা নামাজের সময় মসজিদে নিয়মিত নামাজও পড়েন ঠিক, তেমনি রাত ঘনিয়ে এলে তাস দিয়ে জুয়া ও খেলেন। এক্ষেত্রে হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) তার বাসা এবং অন্যান্য খেলোয়াড়দের বাসাকে নিরাপদ জায়গাহ হিসাবে ব্যবহার করেন। অবশ্য এদের মধ্যে দু’এক জন পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন ইতিমধ্যে, আবার কয়েকজন বিদেশেও অবস্থান করছেন। এ ব্যাপারে মদন মোহন কলেজের সাবেক ইসলামী ছাত্র শিবিরের একজন ছাত্রনেতা নিজ চোখে হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) কে স্থানীয় জগন্নাথপুরের জনৈক শফিক মিঞার বাসায় জুয়া খেলতে একদিন দেখে ফেলেন এবং তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করতে উদ্যত হলে উক্ত শিবিরের সাবেক নেতা এর বড় ভাই জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী একজন সাবেক নেতা যিনি তাকে নিবৃত করেন। উক্ত ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতা অবশেষে তা তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক পেইজে প্রকাশও করেন। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় যে, বিষয়টি তৎকালীন সময়ের আমীর যিনি জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান কেন্দ্রীয় আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান সহ স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে জানাজানি হলেও হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) রুকন হিসাবে এখনো যেমন বহাল আছেন তখনও তিনি বহাল থেকেই যান। 

১৯৯০ থেকে ২০০৫ সালের দিকে হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) একজন ভূমি খেঁকো হিসাবে যথেষ্ট কুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বিশেষ করে পশ্চিম পীরমহল্লাহর ভিতরের অংশে বিঘার পর বিঘা চা বাগানের জায়গাহ অবৈধ ভাবে আত্মস্যাৎ ও দখল এবং অবৈধ কাগজপত্র তৈরী করে তা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি চা বাগানের অনেক জায়গাহ অবৈধ কাগজ পত্র বানিয়ে অন্যের কাছে বিক্রী করে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি বাগানের একজন পদস্থ কুলি নেতা এবং ম্যানেজার ও কিছু কর্মকর্তাকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বাগানের লীজ জমি দখলের নিমিত্তে একটি ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরী করেন। উক্ত কুলি প্রতিনিধি এবং ম্যানেজারকে শতক প্রতি অতি সামান্য টাকা দিয়ে নিজেকে কুলির বংশধর হিসাবে কাগজ তৈরী করেন, আবার কখনো যাদের কাছে বিক্রি করেছেন তাদেরকে কুলির বংশধর বানিয়ে বাগানের জায়গাহ আত্মসাৎ ও বিক্রী করে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি টিলা কেটে সমতল ভূমি বানিয়ে মাটি বিক্রি করে পরিবেশ দূষণ কাজে লিপ্ত হতেও ভ্রুক্ষেপ করেননি। তৎকালীন সময়ের তার এইসব জঘন্যতম অপকর্মের নীরব সাক্ষী হয়েছিলেন কাজলশাহ কানিশাইল নিবাসী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জনৈক দেওয়ানী উকিল। এক্ষেত্রে তিনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করে তার এই ব্যবসায়ের সকল কিছু আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন, যাহা আমরা পরবর্তীতে অন্য সংখ্যায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করবো বলে আশা করছি। সেই সময়কার এডিসি রেভিনিউ ভূমিতে রাজস্ব কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত ছিলেন একজন জামায়াত কর্মী যিনি আব্দুল হাই হারূণ এর আত্বীয়ও বটে, বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন, তিনি জানান এই ধরণের অবৈধ জায়গাহের অবৈধ কাগজ পত্র নিয়ে হাউন আঙ্কেল তার এক প্রতিনিধি মারফৎ একটি চিরকুট পাঠিয়ে তিনি নামজারী করতে একবার তাকে ১০,০০০/ টাকা ঘুষ দিতে চাইলে তিনি প্রত্যুত্তরে হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) বলেন আপনি একজন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও দায়িত্বশীল এবং ইসলামী দলের নেতা, ঘুষ আদান প্রদানে আপনার এই অবস্থা আমাকে রীতিমত লজ্জা দিচ্ছে। আমাকে ঘুষ গ্রহণে অনুরোধ করতে আপনার নূন্যতম লজ্জা নাই দেখে আমি নিতান্তই হতবাক। চা বাগানের এই সকল জমি লীজ নিয়ে আত্মসাতের ক্ষেত্রে তিনি আবার সাবেক ইসলামী ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদল কর্মীদের দিয়ে একটি একটি গ্রুপও তৈরী করেছিলেন, অবশ্য পরবর্তীতে তিনি একবার উক্ত গ্রুপের হাতে লাঞ্চিত হয়েছিলেন এবং উক্ত গ্রুপ পিরমহল্লাহ’র তার বাসায় হামলা ও করেছিল। জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল পর্যায়ের সকলের উক্ত ঘটনা জানা থাকলেও হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) এর বিরুদ্ধে তৎকালীন সময়ের সিলেট মহানগর আমীর এবং বর্তমান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান কিংবা জামায়াতের উচ্চতম কর্মপরিষদ কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি এবং তিনি তার রুকোনিয়াত পদ নিয়ে বহাল তবিয়তেই তখনও যেমন ছিলেন আজও তেমনি আছেন।

আশ্চর্য্যের বিষয় হলো কিছুদিন আগে স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড নাগরিক ফোরাম একটি নির্বাচনী আগাম প্রচারণা করতঃ একটি গণসংযোগ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং উক্ত অনুষ্ঠানে মাওলানা হাবিবুর রহমানকে প্রধান অথিতি করে ৭নং ওয়ার্ডের আপামর জনগণকে দাওয়াত করা হয় স্থানীয় আয়োজক রানা চৌধুরীর বাসায়। উল্লেখ্য, রানা চৌধুরী সাবেক কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সাজু চৌধুরীর ভাতিজা। কিন্তু সেখানে বাধ সাধেন আব্দুল হাই হারূন, তিনি সংগঠনের ৭নং ওয়ার্ডের হোয়াটসআপ গ্রুপে একটি টেক্সট ম্যাসেজ তার এক অনুসারীকে দিয়ে পোস্ট করেন, “যেহেতু এই আয়োজন জামায়াতে ইসলামী ৭নং ওয়ার্ডের পক্ষ থেকে নয়, তাই কেউ যদি উক্ত অনুষ্ঠানে যেতে চান তিনি যেন তার ইচ্ছাতেই যান এবং ইহাতে সংগঠনের কোনো দায়বদ্ধতা নেই”। এর কারণ ঘাটতে গিয়ে জানা যায় রানা চৌধুরী কেন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন তা হাউন আঙ্কেল মোটেও পছন্দ করেন নি। তাই তার এই পদক্ষেপ ও চপেটাঘাত। অবশেষে প্রোগ্রামটি সাকসেস হলেও রেকর্ড পরিমান মানুষের অনুপস্তিতি হয়েছিল বলে জানা যায় এবং হাউন আঙ্কেল তাকে আমন্ত্রণ জানানোর পরেও সেখানে স্বাভাবিকভাবেই অনুপস্থিত থাকেন। দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান ভালো করে পরিস্থিতি অনুধাবন করলেন। কিন্তু তার পরেও জামায়াতে ইসলামীর আগামী ফেব্রুয়ারী’ ২০২৫ এর নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা’র প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) প্রধান কনভেনরের দায়িত্ব কেন দেয়া হলো তা বুধগম্য নয়। আরেকটি মজার ঘটনা হলো, গত চার কিংবা পাঁচ মাস আগে পশ্চিম পীর মহল্লাহ জামে মসজিদের কমিটি পরিচালনা নিমিত্তে  হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করেন। এক্ষেত্রে তিনি একটি পাতানো নির্বাচনেরও আয়োজন করেন। উক্ত নির্বাচনের ভোট গণনা মসজিদের দুতলায় বসে তিনি সম্পূর্ণ একা-একা নিজ হাতেই করেন, সেখানে তার সাথে কেউই ছিলোনা বলে কমিটির অন্যান্য সদস্যরা আমাদেরকে জানান এবং ভোট গোনার কাজে তাহাকে সহযোগিতা করতে তিনি কোনো প্রয়োজন বোধও করেননি। অবশেষে নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায় বেশির ভাগ লোকই তার পছন্দের বিজয়ী হয়েছিলেন এবং সবচেয়ে মজার বিষয় হলো যে হাউন আঙ্কেল সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে মসজিদ কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। মসজিদের নামাজিদের মধ্যে ও কমিউনিটির লোকজন প্রথমে কোনো কিছু না বললেও পরবর্তীতে তাদের কয়েকজন ক্ষেপে যান এবং কয়েকদিন পর ফুঁসে গিয়ে তাহারা হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) এর বাসায় হামলা করেন, তার বাসার গেইটের বাহির থেকে তাহাকে গালিগালাজ করে ডাকাডাকি করলে তিনি ভয়ে বাসা থেকে তখন বের হোন নি। তার কিছুদিন পর থেকে আব্দুল হাই হারূনেরই ঘনিষ্ট সহচর আনোয়ার হোসাইন পাঠান যিনি একসময় তার রিকাবী বাজারস্থ মেট্রোপলিটন ক্লিনিকের একজন কর্মচারী ছিলেন। তিনি কমিটির সকলের দ্বারস্থ হয়ে অব্যাহতভাবে অনুরোধ করতে থাকেন নির্বাচনের ফলাফলকে সবাই মেনে নিতে। আনোয়ার হোসাইন সবাইকে বলেন হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) একজন সম্মানী মানুষ, তার সম্মান রক্ষার্থে ফলাফল সকলের মেনে নেয়া উচিত। উল্লেখ্য, আনোয়ার হোসেইন মেট্রোপলিটন ক্লিনিকে কর্মরত থাকা অবস্থায় হাউন আঙ্কেল মেট্রোপলিটন ক্লিনিকের ব্যবসায়ী অংশীদার ছিলেন এবং তিনি সেখানে রীতিমতো অফিস কক্ষে বসতেন। আনোয়ার হোসেইন একবার মেট্রোপলিটন ক্লিনিকের অফিস কক্ষে হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল)কে বেধড়ক জুতা পেটা ও কিল থাপ্পড় মেরেছিলেন। এ ব্যাপারটির তখনকার সময়ে ক্লিনিকে কর্মরত মালিক পক্ষের একজন এবং দুইজন কর্মচারী আমাদেরকে তা তখন দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে কি কারণে আনোয়ার হাউন আংকেলকে জুতোপিটা করেছেন তা তাহারা জানেন না বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে আনোয়ার হোসেইন ৭ নং ওয়ার্ড ও সিলেট এয়ারপোর্ট থানার জামায়াতে ইসলামীর থানা আমীর এবং দুজনের মধ্যে সখ্যতা খুবই গভীর। মূলত আনোয়ারকে জামায়াতে ইসলামীর পরিবর্তে হাউন আঙ্কেল এর জামায়াতের আমির বলা হয়। যাই হোক, অবশেষে উপায় অন্তর না দেখে হাউন আঙ্কেল পীর মহল্লাহ মসজিদ কমিটির চেয়ারম্যান এর পদ থেকে মাস দুয়েক আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। কিন্তু বর্তমানে আবার উনি উঠেপড়ে  লেগেছেন নতুন আরেকটি কমিটি করে তাতে তিনি কিভাবে আবার চেয়ারম্যান হতে পারেন। 

নির্বাচন নিয়ে হাউন আঙ্কেল এর আরো ঘটনা রয়েছে। পতিতা স্বৈরাচারিনী শেখ হাসিনার শাসনামলে দীর্ঘ ১৫ বছর পশ্চিম পীর মহল্লায় শীর্ষ সন্ত্রাসী আফতাব খান এর রাজত্ব ছিল, আফতাবের উত্থান মূলত হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) এর যথেষ্ট অবদান ছিল। স্থানীয় কাউন্সিলর নির্বাচনে আফতাব খান এর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জামায়াত কর্মী সাজু চৌধুরী। উনি মাত্র ২৭ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। উক্ত নির্বাচনে হাউন আঙ্কেল কে জামায়াতে ইসলামী সিলেটের পক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। জানা যায় হাউন আঙ্কেল মোটামোটি খোলাখোলি ভাবে লোকদেরকে সাজু চৌধুরীর পরিবর্তে আফতাব খান কে ভোট দিতে অনুপ্রাণিত করেন। যার প্রমান হাতে নাতে পেয়েও সুশৃঙ্খল জামায়াত কর্মীগণ নীরবে সহ্য করা ছাড়া আর কিছুই করেন নি। তবে আফতাব খান কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে অভূতপূর্ব এক ফলাফল উপহার দেয় হাউন আঙ্কেলকে। আফতাবের পেটুয়া এক সন্ত্রাসী পাঙ্গাস নামে তাহাকে সবাই চিনতো, ৫ই আগস্টের পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। সে একদিন হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) কে ঘাড় ধরে কয়েকশত কিল থাপ্পড় দিয়ে জালালাবাদ আ/এ থেকে পায়ে হাঁটিয়ে তার পীর মহল্লাহ’র বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে যায়। এমনকি আফতাব খান ও পাঙ্গাস সহ তাদের বাহিনী পরবর্তীতে অন্য আরেকটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মীদের পীর মহল্লায় ৭ থেকে ৮টি বাড়ী-ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এই ঘটনার পর হাউন আঙ্কেল পীরমহল্লার তার নিজ বাসা ছেড়ে দীর্ঘদিন সিলেট শহরে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে অবশেষে আফতাব খানের সাথে আপোষ করে আবার তার বাসায় ফিরে আসেন। স্থানীয় জামায়াত কর্মীদের কাছ থেকে জানা যায় এবং ইহাও কথিত আছে যে ৫ই আগস্টের পর আফতাব খান হাউন আঙ্কেল’র বাসায়ই ৩ দিন অবস্থান করেছিল। আফতাব খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমনকে ৫ই আগস্ট জনতা পীর মহল্লার একটি বাসায় ঘেরাও করে, বাসার সামনের দিকে সাধারণ মানুষ অবস্থান নেয় যাহাতে সুমন পালিয়ে যেতে না পারে, এবং বাসার পিছনের দিকে পাহারার দায়িত্ব ছিল আনোয়ার হোসাইন পাঠানের, পরবর্তীতে সকলে বাসায় প্রবেশ করলে সুমনকে পাওয়া যায়নি। তবে সুমনের জ্বলন্ত সিগারেট ও অন্যান্য জিনিসের প্রমান পাওয়া গেলেও সুমনকে পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে আনোয়ার হোসাইন পাঠান কি সুমনকে বাসার পিছন দিয়ে পালাতে সহযোগিতা করেছিল? এই প্রশ্ন আজো জানা যায় নি। তবে আনোয়ার এবং সুমনের গ্রামের বাড়ী একই গ্রামে অবস্থিত যা পশ্চিম পীর মহল্লার সকলেই অবগত।

বর্তমান কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর আমীরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান যতদিন সিলেট জেলা ও মহানগরে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তখন থেকেই হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) তার একান্ত প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেন। জামায়াতে ইসলামীর একজন দায়িত্বশীল হিসাবে হারুন এর দায়িত্ব পালন শুরু হয় তার নিজ এলাকা বালাগঞ্জ থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির এর পদ  দিয়ে। পরবর্তীতে তিনি সিলেট শহর, মহানগরে ও বিভিন্ন দলীয় পদে দায়িত্ব নেন। তিনি এক সময় সিলেট মহানগর এর নায়েবে আমির ও ছিলেন, তখন আমীরের দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান কেন্দ্রীয় জামায়াত আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান। তা ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিকদের সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি’র পদেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন কিছুদিন। কিন্তু কোনো পদেই তিনি স্থায়ী ভাবে টিকতে পারেন নি কোন সময় । যেখানে যে পদেই দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানেই তিনি গ্রুপিং, বাক বাইটিং করে কিছু লোককে তার পক্ষের গ্ৰুপ বানিয়ে সকল স্থানে ই একটি প্রতিপক্ষ দাঁড় করিয়েছিলেন। এমন কি সংগঠনের অর্থনৈতিক খাতে অমিল ঘটিয়েছেন, যার হিসেব ঠিক মতো দিতে পারেননি এবং পরবর্তীতে তার জন্য তিনি পদ ও হারিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০০০ সালে সমগ্র দেশে জামায়াত-বিএনপি সহ চার দলীয় ঐক্যজোট গঠন হয় তখন হাউন আংকেল বর্তমান আমীরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রাহমানের বিশেষ অনুকম্পায় সিলেট আওয়ামী বিরোধী চার দলীয় ঐক্যজোট এর মহাসচীব নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, আল্লাহ যখন কোনো মানুষকে সম্মান প্রদান করেন আর সেই ব্যক্তি প্রাপ্ত সম্মানকে যদি সম্মান না করে তাকে অবমূল্যায়ন বা অসম্মান করে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই আল্লাহ তাকে দুনিয়াতে লাঞ্চিত করেন, তবে আখেরাতে আল্লাহ তার সাথে কি ব্যবহার করবেন তাহা আল্লাহই ভালো জানেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় গাধা যেমন পরিষ্কার পানি পান না করে প্রথমে পানিকে ঘোলা করে তার পরে তা পান করে। হাউন আঙ্কেল এর অবস্থা অনেকটা সেই রকম। ইসলামী আন্দোলনের ছাতার নিচে বসে তিনি অব্যাহত বুর্জুয়া রাজনীতির চর্চা করে যাচ্ছেন। এতে জনশক্তি’র মধ্যে হাফেজ আব্দুল হাই হারুন (হাউন আঙ্কেল) এর মর্যাদা অত্যন্ত নিম্ন স্তরে পৌঁছে গিয়েছে। অবশ্য বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী সিলেটে হাউন আঙ্কেল এর কোনো স্থায়ী পদবি নেই। বলতে গেলে অনেকটা “ছাই ফেলতে ভাঙা কুলা’র মতো। তিনি সিলেট ১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে বর্তমানে প্রধান কনভেনরের দায়িত্ব পালন করছেন। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শেষ হলে হাউন আঙ্কেলের বর্তমান দায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে, তখন অন্য কোনো দায়িত্বের জন্য তাকে আবার অপেক্ষায় থাকতে হবে। জানা যায় অস্থায়ী সকল দায়িত্ব জামায়াতে ইসলামী সিলেটে হাউন আঙ্কেলকেই দিয়ে থাকে, যেমন এমসি কলেজ মাঠে আনজুমানে খেদমতে কোরান কর্তৃক আয়োজিত তাফসীর মাহফিলে তিনি আয়োজক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ ছাড়াও তিনি প্রতি ঈদের দিনে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা’র মাঠে জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত ঈদের জামাতের আয়োজক হিসাবে তাকে এই গুরু দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি সংগঠনে এরকম স্খলিত চরিত্রের প্রশ্নবিদ্ধ চরিত্রহীন দুমুখী চরিত্রের অধিকারী একজন মানুষকে সিলেটের জামায়াতে ইসলামী কেন বার বার স্থায়ী বা অস্থায়ী পদে দায়িত্ব দেয় সেটাই এখন ভাবার বিষয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে সিলেট এর পশ্চিম পীর মহল্লাহ ছাড়া বাংলাদেশের কোনো জেলা বা থানা শহরে প্রকাশ্যে দলের মধ্যে কোনো গ্ৰুপিং নাই বললেই  চলে। বর্তমানে পীরমহল্লায় হাউন আঙ্কেল আনোয়ার হোসাইন পাঠানকে দিয়ে একটি গ্রুপ মেইনটেইন করে চলেন, তার প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর অন্যান্য কর্মীরা নীরবে তা সহ্য করে চলে আসছেন। জামায়াতে ইসলামী সকল কিছু অবগত হলেও তার কোনো প্রতিকার বা পদক্ষেপ কেন নিচ্ছে না বা কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় নেয় না তা কাহারই বুধগম্য নয়। জামায়াতে ইসলাম কর্তৃক আয়োজিত এইসকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অনেক খোদাভীরু লোকে লোকারণ্য হয়, কিন্তু আয়োজিত অনুষ্ঠানের আয়োজক যে একজন চরিত্রহীন, লির্লজ্জ, চুগলখোর, জুয়াখোর এবং মানুষরূপী একজন অমানুষ তা সকলের কাছে অজানাই থেকে যায়। চলবে —

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত