প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
গত মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত চারদিনের বিমান সংঘর্ষে পাকিস্তান সামরিকভাবে বড় সাফল্য অর্জন করেছে—এমনই দাবি করেছে মার্কিন-চীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশন। কংগ্রেসে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান চীনের আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে ভারতের একাধিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এই ঘটনায় পাকিস্তান প্রথমবারের মতো চীনের অত্যাধুনিক অস্ত্র সাফল্যের সঙ্গে ব্যবহার করেছে।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জেড-১০ সি যুদ্ধবিমান, PL-১৫ বিমান থেকে আকাশে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র এবং HQ‑9 বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতীয় বিমানগুলো মোকাবিলা করেছে। কমিশন জানিয়েছে, এই সংঘাত চীনের অস্ত্র ব্যবস্থার ‘ফিল্ড টেস্ট’ হিসেবে কাজ করেছে এবং পাকিস্তান তা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা সাতটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে ফরাসি-নির্মিত রাফেল বিমানও রয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, চীনের সাম্প্রতিক অস্ত্র ব্যবস্থাগুলো অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানিয়েছেন, তারা সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে উন্মুক্ত এবং চীনের প্ল্যাটফর্মগুলোর পারফরম্যান্স গুণগতভাবে উন্নত।
ভারতীয় পক্ষের বক্তব্যে বলা হয়েছে, কিছু বিমান হারিয়েছে হলেও সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি স্বীকৃত হয়নি। ভারতীয় জেনারেলরা জানান, যুদ্ধের সময় তাদের বিমান ও সামরিক সম্পদ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে বিস্তারিত সংখ্যা প্রকাশ করেননি।
কমিশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও চীনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পাকিস্তানের সামরিক ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুদ্ধের মাত্র এক মাসের মধ্যে চীন পাকিস্তানকে আরও উন্নত যুদ্ধবিমান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। এতে চীনের বৈশ্বিক অস্ত্রবিক্রয়ের প্রচারণায় বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই সামরিক সাফল্য পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ করবে। এছাড়া এটি চীনের প্রতিরক্ষা শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের জন্যও সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে চীনের সমর্থিত অস্ত্র ব্যবহারের ফলে আন্তর্জাতিক মহলে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠিয়েছে। এটি এমন সময় হচ্ছে যখন ভারত-চীনের সম্পর্ক সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বোঝাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালানো হয়। এরপরই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। পাকিস্তান জানিয়েছে, তাদের সামরিক পরিকল্পনা এবং চীনের সহায়তায় তারা ভারতের আক্রমণ প্রতিহত করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ভবিষ্যতে এমন ধরনের সংঘাতের জন্য আরও কার্যকর হতে পারে। এতে চীনের অস্ত্র প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরীক্ষিত হচ্ছে এবং পাকিস্তান তাদের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করছে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই সাফল্য দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি এটি ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে পরিবর্তন আনার চাপ সৃষ্টি করবে। ফলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে।
পাকিস্তান এই যুদ্ধের পর তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে এবং চীনের সাথে সহযোগিতা আরও দৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে ভারত-চীন-পাকিস্তান ত্রিকোণীয় সম্পর্ক নতুনভাবে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মুখে পড়েছে।
সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তানের সামরিক সাফল্য এবং চীনের আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ যোগ করেছে।
পাশাপাশি, এই যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও সামরিক বিশ্লেষণ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিকল্পনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক কৌশলকে পুনর্বিন্যাসের জন্য নতুন তত্ত্ব ও পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করেছে।










