প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত বর্বর হত্যাযজ্ঞের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত আনার জন্য বাংলাদেশ সরকার নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করেছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “সরকার এই মুহূর্তে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের প্রত্যাবর্তনের জন্য সবধরনের কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনি পথ অনুসন্ধান করছে। আমরা চাই, যেসব ব্যক্তি দেশের আইনের চোখে দণ্ডপ্রাপ্ত, তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও আমাদের নজর থাকবে। আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে থেকে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশে বিচারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফেরানো এবং দেশের আইন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “ভারতের প্রতি আমাদের বার্তা স্পষ্ট: বাংলাদেশ সরকারের চাওয়া হলো, দেশেই দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়া হোক, যাতে আমাদের জনগণ তাদের ন্যায়বিচারের পূর্ণ অধিকার পায়।”
উল্লেখযোগ্য, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল দুইজনই ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং দেশের আইনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। তবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতার কারণে তাদের প্রত্যাবর্তন এখনো সম্ভব হয়নি। সরকার বিভিন্ন কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনি পথ অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করছে।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা শুধু চাই না যে, বিচার প্রক্রিয়া কেবল আড়ালে থাকুক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমরা প্রমাণ করতে চাই যে, বাংলাদেশে ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ। এজন্য আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সহযোগিতাও চাইছি। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, দণ্ডপ্রাপ্তরা তাদের অপরাধের দায়ভার নেবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ভারতের উচিত ইতিবাচকভাবে এগিয়ে এসে দণ্ডপ্রাপ্তদের ফেরত দেওয়া। এটা শুধু বাংলাদেশ সরকারের নয়, সমগ্র দেশের মানুষের ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা পূরণের বিষয়। আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই প্রক্রিয়ায় আমাদের সহযোগিতা করবে।”
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, সরকারের এই প্রচেষ্টা একদিকে আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে থেকে করা হচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে সমাধান খোঁজা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, “আমরা চাই এই প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে শেষ হোক। কোনোভাবে উত্তেজনা বা দ্বন্দ্ব সৃষ্টির লক্ষ্য নেই। আমাদের লক্ষ্য শুধু ন্যায়বিচারের পূর্ণ বাস্তবায়ন।”
তিনি আরও বলেন, “যেসব ব্যক্তি দেশের মানুষ ও ইতিহাসের চোখে গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, তাদের আইনের আওতায় আনা বাংলাদেশ সরকারের কর্তব্য। এটি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি দেশের জনগণের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।”
সর্বশেষে অধ্যাপক আসিফ নজরুল ব্রিফিংয়ে জানান, এই উদ্যোগ সরকারীভাবে সম্পূর্ণ গোপন বা সীমিত নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জানানো হয়েছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত হয়। তিনি বলেন, “আমাদের চেষ্টা হলো, আন্তর্জাতিক আইনের পরিপ্রেক্ষিতে সব দিক বিবেচনা করে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা। আমরা চাই, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ন্যায়বিচার সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হোক এবং জনগণের আস্থা বজায় থাকে।”
সরকারের এই উদ্যোগকে কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনের মিশ্রণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে এগিয়ে আসার মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হলো, প্রাপ্তবয়স্ক ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা। তবে এটি কোনো সহজ পথ নয়। এতে দুই দেশের রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা রয়েছে।
সর্বশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়ার প্রতি দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক সমস্ত সুযোগ ও পথ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। সরকারের উদ্দেশ্য একটাই—দেশে ন্যায়বিচারের পূর্ণ বাস্তবায়ন, যেখানে আইন এবং জনগণের ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা সম্মানিত হবে।