প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস সারা দেশে আজ ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে। দিনটির রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রতি বছরই জনমানসে নতুন করে গুরুত্ব পায়। এ বছর দিনটি আরও আলোচনায় এসেছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের কারণে। তিনি আজ বিকেলে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। তার উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনকে আবারও আলোচনায় ফিরিয়ে এনেছে।
আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় তিনি গুলশানের বাসা থেকে অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা হবেন। দীর্ঘ দুই বছর অসুস্থতার মধ্যেও খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে জনসমক্ষে ফিরছেন। তার দলীয় নেতারা বলছেন, তিনি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলীয় সূত্র বলছে, তার অংশগ্রহণ জনমানসে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে।
সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় মহলে ঐতিহ্যবাহী একটি আয়োজন। স্বাধীনতার স্মৃতি, সামরিক বাহিনীর অবদান এবং দেশের নিরাপত্তা বিষয়ে এতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ বছরের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় নন। তার স্বাস্থ্যের অবস্থা সময় ধরে ওঠানামা করলেও দলীয় নেতারা সবসময় তার প্রতি মানুষের আগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন। দলীয় মহলে বিশ্বাস, এই উপস্থিতি তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সহায়ক হবে।
গত বছর খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে অংশ নেন সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। এর আগে তিনি ২০১৮ সালের সিলেট সফরে জনসম্মুখে হাজির হয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পর এই ফিরে আসাকে দলের নেতারা ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, তার উপস্থিতি রাজনৈতিক পরিবেশে ভারসাম্য এনে দেয়।
বিএনপির মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান গত রাতে সাংবাদিকদের জানান, চেয়ারপারসন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা তাকে সীমিত আকারে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তাই দলের পক্ষ থেকে তাকে অনুষ্ঠানটিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে দলের শীর্ষ নেতারা সন্তুষ্ট।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস বাংলাদেশে একটি গর্বের দিন। স্বাধীনতার সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী সম্মিলিতভাবে প্রথম যৌথ অভিযানে অংশ নেয়। সে ঐতিহাসিক দিনকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর ২১ নভেম্বর বিশেষভাবে পালন করা হয়। এই দিনের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে সবসময় দেশের শীর্ষ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকেন। তাই খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ দেশজুড়ে বাড়তি মনোযোগ তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, খালেদা জিয়ার উপস্থিতি রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে দর্শন বা বক্তব্যে অনুপস্থিত ছিলেন। অনেকেই মনে করছেন, তার অংশগ্রহণ দলীয় কর্মীদের উৎসাহিত করবে। তার স্বাস্থ্য নিয়ে যেসব উদ্বেগ ছিল, তা কিছুটা কমবে বলেও তারা মনে করেন।
এবারের অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও আমন্ত্রিতদের তালিকায় আছেন। রাজনৈতিকভাবে এটি বিরোধী দলের প্রতি সরকারের সৌজন্য প্রদর্শনের নিদর্শন বলেই অনেকেই মনে করছেন। সামরিক বাহিনীর অনুষ্ঠান সাধারণত দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য উন্মুক্ত হয়। তাই এখানে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য বজায় থাকার সুযোগ থাকে।
অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি বহু সমর্থকের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। অনেকেই মনে করেন, তিনি দলকে ভবিষ্যতে আবারও নেতৃত্ব দিতে পারেন। যদিও তার শারীরিক অবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়, তবুও তার প্রত্যাবর্তনের প্রতিটি মুহূর্ত দলের কর্মীদের অনুপ্রাণিত করে। তারা আশা করছেন, তিনি ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখবেন।
তবে চিকিৎসকেরা এখনও সতর্ক। তারা তাকে জনসমাগম কম এমন অনুষ্ঠানে সীমিত সময় অবস্থান করার পরামর্শ দেন। তাই সেনাকুঞ্জে তার উপস্থিতিও স্বল্প সময়ের হতে পারে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অংশে উপস্থিত থাকবেন। এরপর চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দ্রুত ফিরে যাবেন। তার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বাড়ানো হয়েছে।
সেনাকুঞ্জে আজ দেশের সামরিক বাহিনীর শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের প্রতীকী চিত্র দেখা যাবে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। জাতীয় জীবনে সামরিক বাহিনীর অবদান তুলে ধরতে বিভিন্ন বক্তব্য হবে। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য তাদের অঙ্গীকার জানান। খালেদা জিয়ার উপস্থিতি এই আয়োজনকে আরও মানবিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব দেবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়ার ভূমিকা দীর্ঘ। তিনি তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার রাজনৈতিক যাত্রা নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি দীর্ঘ সময় দূরে থাকলেও তার উপস্থিতি এখনও মিডিয়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এই উপস্থিতি সেই ধারাবাহিকতাকে আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়।
সশস্ত্র বাহিনী দিবসের মতো একটি রাষ্ট্রীয় আয়োজনে তার অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে তিনি এখনও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তার দলও এই উপস্থিতিকে গণতান্ত্রিক সৌহার্দ্যের অংশ হিসেবে দেখছে। তারা বলছে, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সম্মিলিত উপস্থিতি দেশের জন্য ইতিবাচক।
আজকের অনুষ্ঠান তাই শুধু সামরিক বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন নয়। এটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশেও একটি প্রতীকী বার্তা বহন করবে। দেশের মানুষ অপেক্ষায় আছে তার স্বল্প সময়ের এই জনসম্মুখ উপস্থিতি কেমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক অঙ্গনের সমস্ত আলো এখন তার দিকেই।
বেগম খালেদা জিয়ার সেনাকুঞ্জগামী যাত্রা তাই আজকের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সম্মান, রাজনৈতিক সৌহার্দ্য এবং মানবিক প্রত্যাবর্তনের এই গল্প আজ দেশের মানুষের আলোচনায় থাকবে।










