প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কক্সবাজার সিটি কলেজে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগকে ঘিরে শিক্ষকমহলে বিতর্ক চলছে। কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন, কলেজের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বেতনের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযোগ লুকাতে বিএনপি নেতা এমএম আকতার উদ্দিন চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়েছে।
কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ক্যাথিং অংয়ের সময়কালেই বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ এবং বকেয়া বেতন রয়েছে। শিক্ষকরা জানান, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে সাত কোটি ৪৩ লাখ টাকা এবং ২০০ কর্মকর্তার ৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বকেয়া রয়ে গেছে। এই অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি সুপারিশ করেছে, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে নিয়োগ হওয়ায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এমএম আকতার উদ্দিন চৌধুরীর পদে থাকার সুযোগ নেই। সেই সঙ্গে জ্যেষ্ঠতম সহকারী অধ্যাপককে দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
মাউশির সহকারী পরিচালক মাঈন উদ্দিন লিখিত আদেশে এমএম আকতার উদ্দিন চৌধুরীকে সরিয়ে জ্যেষ্ঠতম সহকারী অধ্যাপককে দায়িত্ব প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাবেক অধ্যক্ষ ক্যাথিং অংয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক ও সহকারী পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছিল।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, এখনও তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি। সাবেক অধ্যক্ষ ক্যাথিং অংয়ের কলেজ ফান্ড থেকে ধার নেওয়া অর্থ এবং অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তা এখনও ফেরত নেওয়া হয়নি। মাউশি নির্দেশ দিয়েছে, টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত সাবেক অধ্যক্ষের অবসর সুবিধা স্থগিত রাখা যেতে পারে।
কক্সবাজার সিটি কলেজের গভর্নিং বডির নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১৬ নভেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কলেজে আসবেন এবং অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে লিখিতভাবে অবহিত হবেন।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এমএম আকতার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক। তিনি জানিয়েছেন, তার নিয়োগে বিধিবিধানের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান এবং তদন্ত শেষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, কলেজ থেকে সাবেক অধ্যক্ষের কাছে ৮৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে, যা মাসে ৫০ হাজার টাকা করে শোধ করা হচ্ছে।
সিটি কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীরা বলছেন, কলেজের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ জরুরি। তারা মনে করছেন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এভাবে কলেজে প্রশাসনিক বিতর্ক ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে আলোচনা চলছেই। শিক্ষকমহল আশা করছে, তদন্ত শেষ হলে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কলেজের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।










