নরসিংদীতে ভূমিকম্পে ৫৮ জন আহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

নরসিংদীতে শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ থেকে ১০টা ৩৯ মিনিটের মধ্যে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কম্পন অনুভূত হয়েছে। এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে একটি বাড়ির ছাদের রেলিং ভেঙে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে আরও ৫৫ জন আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

নরসিংদীর জেলার সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ আমিরুল হক আমার দেশকে নিশ্চিত করেছেন, আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা তিনজনকে ঢাকায় প্রেরণ করা হচ্ছে। অন্যদের জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সবাইকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে গুরুতর আহতদের অবস্থা সংবেদনশীল।”

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা জানান, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ এবং এর কেন্দ্রস্থল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়। তিনি আরও বলেন, “আজকের কম্পনের তীব্রতা আগের একই মাত্রার ভূমিকম্পের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। তাই অনেক এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।”

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও শহরে কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিসহ ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা গেছে ঘরের ফ্যান, টেবিল এবং চেয়ার দোল খাচ্ছে। অনেকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়েছেন।

নরসিংদীর স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কম্পনের সময় হঠাৎ আতঙ্কে সবাই বাইরে বেরিয়ে পড়েন। কেউ কেউ বাড়ির বাইরে চিৎকার-চেঁচামেচি করেছেন। এতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণহীন হলেও পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের জন্য জরুরি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে। পাশাপাশি, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এই ভূমিকম্প স্থানীয়দের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বিশেষ করে পুরোনো ও দুর্বল নির্মাণের ভবনগুলোর ক্ষতির ঝুঁকি বেশি। প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভবন পরিদর্শন শুরু করেছে। কিছু জায়গায় দেখা গেছে দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল ধরেছে। তবে বড় ধরনের ধ্বংসাবশেষ বা ধ্বংস হওয়া ভবনের খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভূমিকম্পের পরও আংশিক কম্পন অনুভূত হতে পারে। তাই মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকা এবং রেলিং, দেওয়াল বা দুর্বল কাঠামোর কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে নিরাপদ স্থান নির্ধারণ করেছে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে কম্পন অনুভূত হওয়ায় সারাদেশে মানুষ আতঙ্কিত। বিশেষ করে ঢাকার রামপুরা, মোহাম্মদপুর, গুলশান ও বারিধারা এলাকায় কম্পনের প্রভাব বেশি অনুভূত হয়েছে। বাসিন্দারা জানান, ঘরের ফ্যান ও টেবিল দুলছিল। অনেকেই হঠাৎ ছুটে বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন।

প্রসঙ্গত, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিংদীর মাধবদী হলেও কম্পনের তীব্রতা রাজধানীসহ আশেপাশের জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা বলেন, “মধ্যনির্দেশনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আরও ছোট কম্পন অনুভূত হতে পারে। তাই মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।”

ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থা প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। আহতদের জন্য চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে মেডিকেল টিম বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, ভবিষ্যতে সেরকম জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কমিউনিটি টিম সক্রিয় করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ভবিষ্যতে নির্মাণকাজের সময় ভূমিকম্প-প্রতিরোধী কাঠামো ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি, মানুষকে সচেতন করার জন্য কমিউনিটি স্তরে প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।

নিরাপত্তা ও জরুরি ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি আহতদের সুষ্ঠু চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং পুলিশ একযোগে কাজ করছে। সব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবন রক্ষা করা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত