নরসিংদীতে ভূমিকম্পে শিশু নিহত, বাবা গুরুতর আহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৪ বার
নরসিংদীতে ভূমিকম্পে শিশু নিহত, বাবা গুরুতর আহত

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

নরসিংদীর সদর উপজেলার গাবতলি এলাকায় শুক্রবার দুপুরে ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় এক শিশু নিহত হয়েছে। শিশুটির নাম ওমর, বয়স ১০ বছর। ভূমিকম্পের সময় বাড়ির সানশেড ভেঙে পড়ে তার ওপর, যা মুহূর্তেই মৃত্যুর কারণ হয়। এতে তার বাবা দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বল গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভূমিকম্প শুরু হলে দেলোয়ার হোসেন তার তিন সন্তানকে নিয়ে দ্রুত বাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় বাড়ির সানশেড ভেঙে তাদের ওপর পড়ে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে বাবা ও ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে আনা হলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওমরের দুটি বোন বর্তমানে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ঢাকা মেডিকেলের পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ভূমিকম্পের ঘটনায় বাবা ও ছেলেকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেছেন। বাবা আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”

ঢামেকে ওমরের চাচা জাকির হোসেন জানান, “ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেলোয়ার হোসেন দ্রুত তিন সন্তানকে নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ঠিক সেই সময় বাড়ির সানশেড ভেঙে তাদের ওপর পড়লে ওমর মারা যায় এবং বাবা গুরুতর আহত হন।” তিনি আরও জানান, তাদের পরিবারের মূল নিবাস কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার উত্তর পাড়া গ্রামে। বর্তমানে তারা নরসিংদীর গাবতলি এলাকায় বসবাস করছিল।

ভূমিকম্পের কারণে নরসিংদী সদরসহ আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষজন ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। স্থানীয়রা জানান, ভূমিকম্পের সময় বিভিন্ন ভবনের ছাদ ও রেলিং ভেঙে পড়ে, যা আহত ও প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নরসিংদীর জেলা সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ আমিরুল হক জানিয়েছেন, “আজকের ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। এ সময় শিশুর মৃত্যু ঘটে।” তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ছাদের ধস বা বাড়ির ক্ষয়ক্ষতির ফলে আহত হয়েছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, একই মাত্রার পূর্ববর্তী ভূমিকম্পের তুলনায় আজকের কম্পনের তীব্রতা অনেক বেশি ছিল। এর ফলে স্থানীয়ভাবে বাড়ি ভাঙা, ছাদ ধসে পড়া ও রেলিং ভাঙার মতো ক্ষতি ঘটে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময়ে ছাদের রেলিং ও সানশেড ভেঙে পড়ার ঘটনা বিশেষভাবে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য বিপজ্জনক। এ ঘটনায় পরিবারগুলো আতঙ্কিত এবং তারা আরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও উদ্ধারকারীরা দ্রুত আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন। তবে স্থানীয়দের মতে, ভবিষ্যতে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নরসিংদী অঞ্চলে ভবিষ্যতে ভূমিকম্প ও কম্পনজনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে, তাই ভবন নির্মাণ ও ছাদের নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। শিশুর মৃত্যু এবং বাবার গুরুতর অবস্থার কারণে পরিবারটি গভীর শোকের মধ্যে আছে। স্থানীয়রা তাদের সহায়তার জন্য এগিয়ে আসছেন।

এই দুঃখজনক ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন এবং চিকিৎসা বিভাগ সতর্ক হয়েছে এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত