বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৯ বার
বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছুটে বের হন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভূমিকম্পে কয়েকজনের মৃত্যু ঘটেছে এবং রাজধানীর বিভিন্ন ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ২০০৩ সাল থেকে গবেষণা পরিচালনা করা ভূতাত্ত্বিক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানান, বাংলাদেশ তিনটি বড় প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। প্লেটগুলোর ত্রিমাত্রিক গতির পর্যবেক্ষণের জন্য জিপিএস ডিভাইস স্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে গত ১৪ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্লেটের গতিবেগ এবং শক্তি সঞ্চয়ের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

তিনি বলেন, “প্রতিটি প্লেট প্রতি বছর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরছে। আমরা প্লেটগুলোর দিক, পরস্পরমুখী গতি এবং সাবডাকশন জোনে প্রতি বছরে কতটা শক্তি জমা হচ্ছে, তা পরিমাপ করি। এই তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল।”

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত এলাকায় ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার শক্তি সঞ্চিত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই শক্তি যেকোনো সময় মুক্ত হয়ে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সৃষ্টি করতে পারে। তবে শক্তি কখন বের হবে তা পূর্বানুমান করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, “পৃথিবীর অন্যান্য সাবডাকশন জোনে দেখা গেছে, ৬৫ থেকে ৮০ শতাংশ শক্তি একবারে মুক্ত হয়, বাকিটা ধীরে ধীরে। আমাদের দেশে একই প্রক্রিয়া চলছে। গত এক হাজার বছরের মধ্যে কুমিল্লার ময়নামতি এলাকায় প্লেটগুলো শক্তি মুক্ত করেছে। এখন নতুন শক্তি সঞ্চয় হয়েছে এবং এটি যেকোনো মুহূর্তে মুক্ত হতে পারে।”

বিশেষজ্ঞ হুমায়ুন আখতার আরও উল্লেখ করেন, “গত বছর থেকে এ পর্যন্ত সিলেট, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়েছে। এগুলো সব সাবডাকশন জোনে ঘটেছে। এই ধরনের ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বড় ভূমিকম্প আজ, কাল বা ৫০ বছর পরও ঘটতে পারে।”

তিনি সতর্ক করেছেন, “বাংলাদেশের স্থাপত্য ও অবকাঠামো ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত নয়। তাই ছোট মাত্রার কম্পন থেকেও মানুষ আহত হতে পারে এবং ভবনে ফাটল বা ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিতে পারে। সরকার ও জনগণকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে হবে।”

ভূমিকম্পের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করেছে। মানুষ উঁচু ভবন, স্কুল, কলেজ, অফিস ও ব্যবসায়িক স্থাপনাগুলো থেকে দ্রুত বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমানোর জন্য অবকাঠামোর পরীক্ষা, জরুরি পরিকল্পনা এবং জনসচেতনতা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্প-কারখানা ও আবাসিক ভবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এছাড়া দেশব্যাপী ভূমিকম্প সচেতনতা বৃদ্ধি করা দরকার।

এ ঘটনায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি সেবা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম সচল রয়েছে। তবে মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের ভূ-তাত্ত্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বড় ভূমিকম্পের জন্য জনসচেতনতা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় শক্তিশালী প্রস্তুতি গ্রহণ এখন সময়োপযোগী। তারা সতর্ক করেছেন, বাংলাদেশে যেকোনো সময় শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটতে পারে, তাই নিরাপত্তা এবং প্রস্তুতির দিকে সকলকে মনোযোগ দিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত