গাজীপুরে বাণিজ্য মেলায় মারধর-হামলার ঘটনায় ২০ আহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৭ বার
গাজীপুরে বাণিজ্য মেলায় মারধর-হামলার ঘটনায় ২০ আহত

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

গাজীপুর মহানগরের শিমুলতলীতে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য ও কুটিরশিল্প মেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন দর্শনার্থী আহত হয়েছেন। হামলার পর মেলার সব কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিমুলতলীর আর্মি ফার্মা মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, মেলার ভেতরে একটি দোকানে সিগারেটের দাম নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগে এক ক্রেতা বিরোধের জন্ম দেন। ক্রেতা বাড়তি মূল্য দিতে অস্বীকার করলে দোকানদার ও মেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বাগ-বিতণ্ডা শুরু হয়। উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করলে ক্রেতাকে মারধর করা হয়।

এই খবর মেলার বাইরে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মেলায় হামলা চালায়। হামলাকারীরা মেলার দোকানপাট, লটারির প্যান্ডেল, মেলার অফিসসহ সব স্থাপনা ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে ওঠায় দর্শনার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে হুড়োহুড়ি করে মেলা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। ঘটনার সময় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় চক্ষু হাসপাতালের বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী কিশোর সুমন মিয়া জানান, “মূলত সিগারেটের দাম বেশি নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ক্রেতাকে মারধর করা হয়েছে। এরপর এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে হামলা চালায়। হামলার সময় মেলার লোকজন পালিয়ে যায়। হামলাকারীরা ভাঙচুর করে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায়।”

সংবাদমাধ্যমকে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার জানিয়েছেন, খবর পেয়ে রোববার দুপুরে এক মতবিনিময় সভায় মেলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে মেলা কর্তৃপক্ষের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়ে হামলার রূপ নেয়। পুলিশ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, “হামলার ঘটনায় আহতদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনার পেছনে সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাও রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই মাসব্যাপী চলমান এই মেলা নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি ছিল। মেলায় লটারি–বাণিজ্য ও কিছু দোকান নিয়মভঙ্গ করছিল, যা স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। স্থানীয়দের ক্ষোভের সঙ্গে সামঞ্জস্যবশত এই হামলা সংঘটিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জনসমাগম এলাকায় যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ছোট্ট বিরোধও বড় ধরনের সহিংসতায় পরিণত হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে জনসমাগমপূর্ণ মেলা বা বাণিজ্যিক কার্যক্রমের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হামলার পর পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং মেলার কর্মকর্তারা একযোগে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। আহতদের উদ্ধার ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ভাঙচুর করা স্থাপনা ও দোকানপাটের নিরাপত্তা পুনরায় স্থাপন করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মতে, মেলা চলাকালীন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা আশা করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও মেলার আয়োজকরা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

এই ঘটনায় শিক্ষণীয় বিষয় হলো, ছোটখাটো বিরোধকে কিভাবে সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা যায় এবং জনসমাগম এলাকায় নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থাপনা কতটা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভবিষ্যতে মেলার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছে, যাতে পর্যবেক্ষণ, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের নিয়মাবলী বজায় থাকে।

হামলার ঘটনায় আহতরা বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আহতদের দ্রুত সুস্থ করে তোলা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ মেলার পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্বকেও তুলে ধরে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত